Contai Co-operative Election Vandalism

মুখ্যমন্ত্রীর এলাকায় সমবায় ব্যাঙ্ক নির্বাচনে মনোনয়ন তুলতে বাধা-তাণ্ডব, বিক্ষোভ থানায়

রাজ্য জেলা

কন্টাই সমবায় ব্যাঙ্কের সামনে বিক্ষোভ।

শুভেন্দু অধিকারী নিজে চেয়ারম্যান পদে থেকেছেন। তাঁরই আবাস এলাকার কন্টাই কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভোটে চলছে তাণ্ডব। মনোনয়ন পত্রই তুলতে দেওয়া হচ্ছে না। চাওয়া হচ্ছে ‘হলুদ কার্ড’। 
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা নির্বাচনে প্রার্থীপদ তোলার দিন থেকেই শুরু তাণ্ডব শুরু করল বিজেপি দুষ্কৃতীরা। সোমবার সমবায় ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা নির্বাচনের জন্য কিছু শেয়ার হোল্ডার সদস্য মনেনয়ন পত্র তুলতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। গেরুয়া পোশাক পরে একদল তিলকধারী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে নামে। এই সমবায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে তো বটেই, এমনকি তাঁর আবাসের শহরে। শুধু তাই না, শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেখানেই সমবায় ব্যাঙ্ক নির্বাচনে এই আক্রমণ। 
এদিন সকাল থেকেই কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের হেড অফিসের ভিতর থেকে প্রধান গেট আটকে দাঁড়িয়ে ছিলোন বিজেপি’র কিছু নেতা এবং মহিলা কর্মী। মনোনয়ন পত্র তুলতে গেলে তাঁদেরকে ঢুকতে না দিয়ে প্রশ্ন করা হয়, ‘হলুদ মার্কা কার্ড আছে’? 
গায়ের জোরে চালু নিয়ম হলো, বিজেপি’র কার্ড না হলে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হবে না। ফলে ফিরে আসেন বেশ কিছু শেয়ার হোল্ডার। 
খবর পেয়ে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের নিয়ে ব্যাঙ্কের গেটে যান। ছিলেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মন্ডলী সদস্য সুব্রত পন্ডা, চিত্ত দাস, সমীর  সামন্ত, কানাই মুখার্জি। ১৪টি ক্ষেত্রে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের নিয়ে ব্যাঙ্কের সামনে উপস্থিত হন তাঁরা। সেখানে পুলিশের সামনে মনোনয়নে বাধা সৃষ্টি করা হয়। ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 
পূর্ব মেদিনীপুর এবং হাওড়া মিলিয়ে ১৪টি ক্ষেত্রের ১১০টি আসনের প্রায় ৮০ হাজারের বেশি ভোটদাতা এই ব্যাংক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর এবং মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর নমিনেশন তোলার দিন নির্ধারিত করেছিল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। 
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস মনোনয়ন পত্র দাখিলের জন্য কাঁথি থানার আইসি’র কাছে অভিযোগ জানাতে যান। আইসি না থাকায়, সেখানে  ডিউটি অফিসার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। পরে অভিযোগকারীরা বিক্ষোভ দেখানোয় বাধ্য হয়ে অভিযোগ নেয় পুলিশ। 
সমবায়ীদের পক্ষে হিমাংশু দাস বলেন, এইভাবে গণতন্ত্রের কন্ঠ রোধ করে সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে তৃণমূল কুক্ষিগত করে রেখেছিল। তেমনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজের এলাকায় একই খেলায় মেতে উঠেছেন।’’

Comments :0

Login to leave a comment