মুক্তধারা
গল্প
গভীর রাত এখন
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অস্বাভাবিক নড়াচড়া করছে সুমন। সুমিতার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় । দেখে সুমন ছটফট করছে,কি একটা অস্বস্তি সুমনের মধ্যে। মাঝে মাঝে একটা গোঙানির মতো শব্দ করছে, কিছু বলতে চাইছে। সুমিতা গা ঠেলে ডাকে। একটা ঘোরের মধ্যে তাকিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে সুমন। সুমিতা দ্রুত বেগে বিছানা থেকে নেমে ফোনটা হাতে নেয়। একটু দুরেই থাকেন পরিতোষ বাবু। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডাক্তার। সুমিতার উদ্বেগের স্বর, ডাক্তারবাবুর এসে পড়া কিছুই জানতে পারে না সুমন। পরিতোষবাবু একটা ইনজেকশন দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝিমিয়ে পড়ে সুমন। এবার একটা শব্দহীন নিশ্ছিদ্র অচেতনতা। গোঙানির নেই। ছটফটানি নেই। নড়াচড়া নেই। সুমিতা খাটে হেলান দিয়ে বসে থাকে সারারাত।
সকাল দশটা। ঘুমের ঘোরে থেকে চোখ মেলে তাকালো সুমন। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুমিতা। আস্তে আস্তে হাতদুটো ধরে সুমনের 'কি হয়েছিল কাল?'
সুমিতার কন্ঠস্বর শান্ত। সুমন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে,বলতে থাকে 'কি হয়েছিল জানিনা। অস্পষ্ট সব আবছায়া। কারা যেন ভাঙছিল আমাদের বসার জায়গা, চেয়ার টেবিল,দেওয়ালে রাখা ছবিগুলো, আমাদের অফিসের যা কিছু কাগজপত্র ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলছিল। আমরা ক'জন চেষ্টা করছিলাম সব কিছু বাঁচাতে, পারছিলাম না...'
বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সুমন। চোখের কোন থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। সুমিতা তার হাতদুটো শক্ত করে ধরে,বলে-'ওঠো চলো, চোখে মুখে জল দাও,এত ভাবলে হবে? লড়াই তো লড়তে হবে গো '
সুমন সুমিতার দিকে তাকিয়েই থাকে।
Comments :0