Assembly 2026 Rajarhat Newtown

বাম বিকল্পই মানুষের অধিকার আদায় করতে পারবে: সেলিম

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

সুভাষ পারিয়াল: নিউটাউন

বিজেপি এবং তৃণমূল মানুষের অর্জিত অধিকার কেড়ে নিতে হামলা চালাচ্ছে। একমাত্র বাম বিকল্পই রাজ্যের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ করে অধিকার আদায় করতে পারবে। শনিবার রাজারহাট- নিউটাউনে এক নির্বাচনী সভায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেছেন, বিজেপি তৃণমূল নিজেদের রাজনৈতিক মেরুকরণ টিকিয়ে রাখতে মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিতে নেমেছে। তৃণমূলের প্রশাসনিক আধিকারিকদের ব্যবহার করে আরএসএস’র নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশন এই হামলা চালাচ্ছে।   
এদিন রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী সপ্তর্ষি দেবের সমর্থনে কর্মী সভা ছিল বিষ্ণুপুর খেলার মাঠে, যা জনসভার রূপ নেয়। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক পলাশ দাশ, অসীম চক্রবর্তী, তাপস মালাকার, আজিজার রহমান, গোরা পাল। সভাপতি ছিলেন পরিমল মিস্ত্রি। উপস্থিত ছিলেন মহিলা সমিতির প্রবীন নেত্রী অপর্ণা গুপ্ত। গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন সৌমেন রায়। কর্মী সভায় সপ্তর্ষির দেবের নির্বাচনী সংকল্প উদ্বোধন করেন পলাশ দাশ। নির্বাচনী গান প্রকাশ করেন মহম্মদ সেলিম। 
সভায় সেলিম বলেন, গত ১০ বছর ধরে নির্বাচনী প্রচারে মোদী তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে অনেক তরজা করলেও কার্যকরী কোনও ব্যবস্থা নেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন নারদ, সারদা, গোরু পাচারকারীদের জেলে রাখবেন। কিন্তু বাংলার মানুষ দেখছেন যাদের জেলের ভেতরে থাকার কথা তারা বাইরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভয়া, আনিস খান বিচার পাননি। বরং বিচারাধীন করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে। এমনকি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিচারাধীন করা হয়েছে। আরএসএস বিজেপি’র ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র গড়তে নির্বাচন কমিশন এই কর্মসূচিতে নেমেছে। কমিশন কাগজ দেখাতে বলছে সাধারণ মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শিক্ষাগত সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন না, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পিএইচডি সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন না। এখন ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে কাগজ দেখাতে বলছে। 
তিনি বলেন, কেন্দ্রে রাজ্যে স্বৈরতন্ত্র চালাচ্ছে। লাইব্রেরিতে কোনও বই সংবাদপত্র থাকবে, ফতোয়া দিচ্ছে। অতীতে জরুরি অবস্থাতেও এমন শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল। এরাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার পঞ্চায়েত, পৌরসভা, লাইব্রেরি, সমবায়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিটি গঠন করেছিল। এখন সব জায়গায় নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে শাসকের দখলদারি এনেছে তৃণমূল সরকার। ২০২৩ সালের ফুরফুরা পঞ্চায়েতের নির্বাচনে জয়ী হয় সিপিআই(এম), আইএসএফ প্রার্থীরা, কিন্তু তাঁদের জয়ের সার্টিফিকেট আদায় করতে হয়েছে হাইকোর্টে লড়াই করে। বিজেপি তৃণমূল গণতন্ত্র হত্যায় একইভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। তৃনমূল এই রাজ্যের বিভিন্নপ্রান্তে গাছ কেটে বিক্রি করছে তো বিজেপি জঙ্গল সাফ করে দিচ্ছে। নদী পাহাড় সব আক্রান্ত ওদের হাতে। 
সেলিম বলেন, এই লুটের রাজনীতি করতে ওরা লাল হটাতে চেয়েছিল। লাল হটেছে কিন্তু বাংলা বাঁচেনি। লাল ঝান্ডাই গরিব মেহনতি মানুষের স্বার্থে লড়াই করে তাই দক্ষিণপন্থীরা চায় না লাল ঝান্ডা থাকুক। ত্রিপুরাতে বামফ্রন্টের মানিক সরকার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সেখানে মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল নেতাদের রোজ পাঠাতেন বিজেপি’র নির্দেশে। এখন সেখানে বিজেপি সরকার। এখন আর তৃণমূলকে ত্রিপুরায় দেখা যায় না। বাংলায় আরএসএস বিজেপি পা রাখতে পারছিল না, তাই এখানে তৃণমূলকে তৈরি করে ব্যবহার করেছে। বাংলার বুকে বাম মতাদর্শকে মুছে দিতে দেশি বিদেশি প্রতিক্রিয়ার শক্তির সাহায্য নিয়ে আরএসএস’র পরিকল্পনায় নামানো হয়েছিল তৃণমূলকে। তৃণমূল আসলে আরএসএস’র প্রজেক্ট। এখনো ওদের সেই সেটিং চলছে। বিজেপি আর তৃণমূল কেউ কারো বিরুদ্ধে লড়াই করে না। আরএসএস‘র সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের চাষ বাংলার বুকে তৃণমূলই করে দিচ্ছে। ওরা রামন্দির করছে, এরা জগন্নাথ মন্দির, মহাকাল মন্দির, দুর্গাঙ্গন করে দিচ্ছে। হাসপাতাল, মিড ডে মিল, কর্মসংস্থান, শিল্প, কৃষির অগ্রগতি দক্ষিণপন্থীদের কর্মসূচিতে নেই। বাম বিকল্পই সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করবে। এদিন পলাশ দাশ সভায় বলেন, তৃণমূল বিজেপি কেউ কারো বিরুদ্ধ লড়াই করছে না। এই দুই শক্তি বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করে চলেছে। এই দুই সরকারই গরিব খেটে খাওয়া মানুষের শত্রু। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল বিজেপি জনগণকে হয়রানির শিকার করে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে। 
 

Comments :0

Login to leave a comment