শুক্রবার মধ্য রাত পার করে বিচারাধীন ভোটারদের দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে ১২ লক্ষের নাম আছে তালিকায়। প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় ১০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম ছিল। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৩৭ লক্ষ ভোটারের মীমাংসা করা সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ দুই দফায় ২২ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ হলো। তারমধ্যে অবশ্যই বাতিলরাও আছেন। কিন্তু কমিশন যে ৩৭ লক্ষের যাচাই হয়ে গেছে বলে জানালো, তাদের মধ্যেই ১৫ লক্ষের নাম এদিনও প্রকাশ করতে পারলো না।
অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের উপস্থিতিতে বৈঠক করেন রাজ্য সরকার ও কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকের পর রাতে সাংবাদিকদের কাছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান,‘‘ তালিকা তৈরি হয়ে গেছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগবে।’’ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে তালিকা চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে। সেখান থেকে রাজ্যের বুথ ভিত্তিতে তালিকা ভাগ হওয়ার পর তা ওয়েবসাইটে উঠে। সময় লাগার কারণ হিসাবে কমিশনের ব্যাখ্যা, রাজ্যে ৮০ হাজারের ওপর বুথ আছে। তাই সময় লাগবে।
আগামী ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। প্রথম পর্বে রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনের ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি করে বৈধ ভোটার চিহ্নিত করার কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কমিশন সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ শেষ হয়েছে। ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক মিলে দিনে এখন দেড় লক্ষ করে বিচারাধীন ভোটারের মীমাংসার কাজ করতে পারছেন। ফলে এদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৭ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি করা গেছে। এরপর প্রথম পর্বের ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে ১০ দিন পড়ে থাকবে। দিনে দেড় লক্ষ করে বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন হলে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি করা যাবে। ফলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে বিচারাধীন অবস্থাতেই প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ ভোটার নিষ্পত্তির বাইরেই থেকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
বিচারধীন ভোটারদের মধ্যে বাতিলের হার ৪০ শতাংশ বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। সেই হিসাবে ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে ন্যূনতম ২৪ লক্ষ ভোটার বাতিল বিবেচিত হতে চলেছেন। ফলে বিপুল সংখ্যায় এই বাতিল ভোটারদের আবার ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে বিচারক ইতিমধ্যেই ঠিক হয়েছে। কিন্তু তাঁদের বিচার প্রক্রিয়া কবে থেকে শুরু হবে তা নিয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, ‘‘ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চারটি স্থানের কথা বলা হয়েছিল। তারমধ্যে হাইকোর্টের একটি প্রতিনিধিদল রাজারহাটে সরকারের জুডিসিয়াল আকাদেমি ঘুরে আসেন। কমিশনের তরফ থেকে একদল প্রতিনিধি পাঁচটি এলাকা ঘুরে এসে রিপোর্ট দিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ হাইকোর্টের বিচারকদের তিন সদস্যের এক কমিটি আছে। তাঁরা ঠিক করে দিলে কোথায় ট্রাইব্যুনালের শুনানি হবে তা ঠিক করে দেওয়া হবে। ফলে বিচারাধীন অবস্থা থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া ভোটারদের ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য সপ্তাহ পার হয়ে যেতে চলেছে। বাতিল ভোটারদের বাদ দিয়েই কী ভোট হবে রাজ্যে।
ফলে ভোটারকে বিচারাধীন ভোটদানের অধিকার অনিশ্চিত করে কীভাবে ভোট হবে এই সঙ্গত প্রশ্নকে এখন কমিশনের পক্ষে এড়ানো কঠিন। অন্যদিকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে থাকা ভোটারদেরই বিচারাধীন করে তাঁদের ভোটদানের বৈধতা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ এসেছিল শীর্ষ আদালত থেকে। রাজ্যের নিষ্পত্তি না হওয়া ভোটারদের নিয়ে কী নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত তারজন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি আছে।
SIR SECOND SUPPLIMENTARY
মধ্যরাত গড়িয়ে প্রকাশিত দ্বিতীয় সাপলিমেন্টারি তালিকা
×
Comments :0