Sujan Chakraborty

বামপন্থীদের লড়াই মানুষের রুজিরোজগার নিয়েই, কর্মী সভায় চক্রবর্তী

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

তৃণমূল-বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিকে ভেঙে তছনছ করে ফেলতে হবে। রাজ্যের অতীত গৌরব ফিরিয়ে বাঁচাতে হবে বাংলাকে। গণতান্ত্রিক, খেটে খাওয়া মানুষজন, এমনকি রাজনৈতিক বিরোধী মানুষদের কাছেও পৌঁছাতে হবে। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের জনবিরোধী কাজে সবাই আজ অতিষ্ঠ। এই পরিস্থিতি পাল্টাতে রাস্তায় নামতে হবে সাধারণ মানুষকেও। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নির্বাচনী কর্মীসভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এদিন তিনটি সভা হয়। প্রথম সভা হয় পটাশপুরের মতিরামপুরে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরির সমর্থনে। দ্বিতীয়টি হয় এগরায় বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী সুব্রত পন্ডার সমর্থনে। তৃতীয় কর্মীসভাটি হয় নাচিন্দায় কাঁথি উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী সুতনু মাইতির সমর্থনে।
সভাগুলিতে সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পটাশপুরে সিপিআই'র জেলা সম্পাদক গৌতম পন্ডা, সিপিআই নেতা মাখন নায়ক, আরএসপি’র জেলা সম্পাদক সুবল সামন্ত ও প্রার্থী সৈকত গিরি। সভাপতিত্ব করেন কালিপদ দাস মহাপাত্র। 
সুজন চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে সীমাহীন দুর্নীতি করেও তৃণমূল কেন টিকে আছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। দুই দলের সেটিং যদি না থাকত তবে কবেই দিদির কোমরে দড়ি পড়ত। দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব চায় না এ রাজ্যে বিকল্প শক্তি হিসাবে বামপন্থীরা উঠে আসুক। মমতা ব্যানার্জি বিজেপিকে সন্তুষ্ট করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান। অথচ এদের কারোর মুখেই মানুষের রুজিরুটি, বেকারত্ব,পরিযায়ী শ্রমিকের যন্ত্রণা, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে একটিও কথা নেই।  
তিনি বলেন, রাজ্যটাকে তৃণমূল একেবারে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান প্রতিটি ক্ষেত্রে কঙ্কালসার চেহারা। রুজিরুটির তীব্র সঙ্কট। রাজ্যে বিজেপি’র আগ্রাসন ও তৃণমূলের অপশাসন বাড়ছে। এই দুইয়ের জাঁতাকল থেকে একমাত্র বামপন্থীরাই পারে রাজ্যকে বাঁচাতে, রাজ্যের মানুষকে বাঁচাতে। কেননা, বামপন্থীদের লড়াই ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে। লড়াই মানুষের রুজিরোজগার নিয়ে, কাজ নিয়ে।
এসআইআর নিয়ে সুজন চক্রবর্তী এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ব্যাপকহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এর বিরুদ্ধে বামপন্থীদের লড়াই চলছে এবং চলবে। শেষে তিনি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বামফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক - ধর্মনিরপেক্ষ জোটপ্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।

Comments :0

Login to leave a comment