ফের রাজ্য প্রশাসনে রদবদল নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ৮৩ জন বিডিও এবং এআরওকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে রবিবার নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। একেবারে প্রকাশ্যে তৃণমূলের নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন পূর্বস্থলী ২ বিডিও অঞ্জন ঘোষাল। রবিবার নির্বাচন কমিশন তাঁকেও সরিয়ে দিল। তার পরিবর্তে পূর্বস্থলী ২ নতুন ভিডিও হলেন মনিশ নন্দাই। তিনি ২০১৬ সালের ডাবলু বিসিএস ব্যাচের।
পূর্বস্থলী ২ নতুন ভিডিও অঞ্জন ঘোষাল গত ৯ মার্চ এসআইআর নিয়ে স্মারকলিপি দিতে আসা সিপিআই(এম) কর্মীদের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এই বচসার হয় তাঁর দপ্তরের সামনে স্মারকলিপি কর্মসূচিতে জমায়েত হওয়া মানুষজনের সামনে। ফলে আগে থেকে অনুমতি নেওয়া সত্বেও সেদিনকার স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায়। সেদিন পূর্বস্থলী ২ বিডিওকে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি উপলক্ষে বিডিও দপ্তর চত্বরে মাইক লাগানো হয়। সেই সময় পূর্বস্থলী ২ বিডিও অঞ্জন ঘোষাল স্বয়ং একদল তৃণমূল নেতা পরিবেষ্টিত হয়ে চলে আসেন। তিনি উদ্যোক্তাদের মাইক বন্ধ করার নিদান দেন। তাতে প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, কেন ? উত্তরে বিডিও বলেন, এটা আপনাদের জমানা নয়। এই কথা বলতেই উদ্যোক্তাদের মধ্যে কেউ বলেন, এটা আমাদের জমানা নয়, তাহলে কার জমানা? এই কথা শোনার পরে আরও রাগান্বিত হয়ে বিডিও অঞ্জন ঘোষাল তীব্র আস্ফলন শুরু করে দেন। উনি বলেন, আমার উদ্দেশ্যে খারাপ মন্তব্য করা হয়েছে। ক্ষমা চাইতে হবে তা না হলে আমি স্মারকলিপি নেব না। স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোক্তারাও বিডিও’র কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, আমরাও এইরকম একজন সক্রিয় তৃণমূল নেতার কাছে স্মারকলিপি দিতে চাই না। সেই ঘটনার কথা কালনা মহকুমা, জেলা এমনকি রাজ্য পর্যন্ত ছবিসহ লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। রবিবার সেই বিডিওকে সরানোর খবর পাওয়ার পর সিপিআই(এম) নেতা কর্মীরা তো বটেই সাধারণ ভোটাররাও খুবই খুশি হয়েছেন।
রাজ্য প্রশাসনে রদবদল প্রসঙ্গে এদিন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সলিম বলেন, বাইনারিকে ফিরিয়ে আনার জন্য রামনবমীকে কেন্দ্র করে রঘুনাথগঞ্জে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হলো। কিন্তু সমশেরগঞ্জে সম্ভব হয়েছিল তা কিন্তু রঘুনাথগঞ্জে সম্ভব হলো না। দোকান ভাঙলো পুড়লো সম্পত্তি নষ্ট হলো ধ্বংস হলো। একেবারে ওয়াকি টকি নিয়ে পরিচিত আরএসএস-বিজেপি কর্মীরা, গুজরাটের কায়দায় ম্যাপিংকরে নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আর পুলিশ সেখানে নিশ্চুপ ছিল, প্রশাসন চুপ। মুখ্যমন্ত্রী হোন বা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বা আধিকারিক স্তরে রদবদল আসলে নাটক।
এদিন শুধু পূর্বস্থলী ২ বিডিওকে নয় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ৮৩ জন বিডিও এবং এআরওকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে রবিবার নির্দেশিকা জারি করে কমিশন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূমে রদবদল করা হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে নতুন করে দায়িত্ব পাচ্ছেন আধিকারিকরা। কমিশন সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের ৭ জন, বীরভূমের ৬ জন, হুগলির ৫ জন, বাঁকুড়ার ৪ জন, পুরুলিয়ার ৩ জন, হাওড়া ও পশ্চিম বর্ধমানের ১ জন করে বিডিও বদলি হয়েছেন। মালদহে ৬ জন, জলপাইগুড়িতে ৪ জন, কোচবিহারে ৩ জন, উত্তর দিনাজপুরে ১জন, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১ জন করে বদলি হয়েছেন। মুর্শিদাবাদেও ৪ জন বিডিওকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লকের দুই বিডিও-কেও বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Election Commission
রাজ্যের ৮৩ বিডিওকে সরালো কমিশন
সেদিন স্মারকলিপি দিতে আসা মানুষজনের সামনে বিডিও অঞ্জন ঘোষালের সেই উগ্রমূর্তি।
×
Comments :0