youth unemploment

শহুরে যুবদের ৯.৯% কর্মহীন, ন্যূনতম মজুরি নেই ২৫% অস্থায়ী শ্রমিকের

জাতীয়

ভারতবর্ষে শহুরে যুবদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই কর্মহীন। পর্যায়ক্রমিক শ্রম শক্তি সমীক্ষার ভিত্তিতে স্টেট ব্যাঙ্কের একটি গবেষণা রিপোর্টে জানানো হয়েছে এই তথ্য। 
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি কেন্দ্রের সরকারের আসীন হওয়ার পর থেকে দেশে সর্বত্র কর্মসংস্থানের হার সঙ্কটে পড়েছে। এই সমীক্ষায় শহুরে যুব অংশের সংকট দর পড়েছে স্পষ্ট করে। 
চলতি মে-তে প্রকাশিত পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা (পিএলএফএস) ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি  রিপোর্টে বিশ্বের শ্রম বাজার সম্পর্কেও বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী শ্রম বাজারে প্রতিকূলতা রয়েছে। তবে ২০২২ সাল থেকে ভারতের যুবদের  বেকারত্বের হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এসবিআই-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, "২০২৫ সালে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী যুবদের বেকারত্বের হার আনুমানিক প্রায় ১২.৬ শতাংশ (আইএলও, ২০২৫), বিশ্বে সামগ্রিক বেকারত্বের হারের তুলনায়ও এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পাশাপাশি, এটি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের ক্রমাগত প্রতিবন্ধকতাকে তুলে ধরে।"
তুলনায়, ২০২৫ সালে ভারতবর্ষের যুবদের বেকারত্বের হার ৯.৯ শতাংশ। 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই হার পিএলএফএস ২০২২-এর ১০.৯ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ২০২৪ সালে ১০.৩ শতাংশে নেমে আসে এবং এরপর ২০২৫ সালে তা ৯.৯ শতাংশে পৌঁছায়।
তবে আন্তর্জাতিক স্তরে কর্মসংস্থানের তুলনা ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক হয়েছে। ভারতে সমীক্ষার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে কর্মরতদের বড় অংশকেই ‘স্বনিযুক্ত‘ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।  
স্টেট ব্যাঙ্কের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, শহুরে যুব বেকারত্বের হার গ্রামীণ বেকারত্বের হারের চেয়ে বেশি হলেও, বিগত বছরগুলোতে এতেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, শহুরে যুব বেকারত্বের হার ২০২২ সালে ১৬.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪ সালে ১৪.৩ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে আরও কমে ১৩.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
অপরদিকে, একই সময়কালে গ্রামীণ যুব বেকারত্ব ৮-৯ শতাংশের পরিসরে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
এসবিআই-এর সমীক্ষায় যুব বেকারত্বের সংখ্যার একটি অংশকে তরুণদের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার জন্য দায়ী করা হয়েছে। 
তবে স্টেট ব্যাঙ্কের প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে যে দেশে অস্থায়ী শ্রমিকদের ২৫ শতাংশই ন্যূনতম মজুরি পান না। ওড়িশায় এই হার ৬৬ শতাংশ। 
আরও জানানো হয়েছে যে অস্থায়ী শ্রমিকের হার পাঞ্জাবে সবচেয়ে বেশি, ৮২ শতাংশ। এরপরই রয়েছে বিহার এবং উত্তর প্রদেশ, হার ৮১ শতাংশ।  অস্থায়ী শ্রমিকের ৪২ শতাংশকেই কাজ পেতে হয় কৃষি ক্ষেত্রে। মজুরি মেলে না এমন কাজের ৪৫ শতাংশই করেন মহিলারা।
পাশাপাশি, প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন ও অকৃষি খাতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার ফলে ভারতের শ্রমবাজারে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে।
স্টেট ব্যাঙ্কের হিসেব অনুযায়ী ত্রিশের বেশি বয়সী অংশে কর্মহীনতার হার ২.২৬ শতাংশ।

Comments :0

Login to leave a comment