উৎপল মজুমদার: মালদহ
স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসকদের সহায়তা করা থেকে জল পেরিয়ে ওষুধ পৌঁছানো, ভরসা সেই ‘আশাদিদি’। জলবন্দি মালদহের মানিকচকের ভুতনির মানুষ। বিপন্ন সময়ে তাঁদের ভরসা হয়ে রয়েছেন আশাকর্মীরা।
মালদহ জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে উত্তর ভুতনির জন্য জোনাল রিলিফ অফিস থেকে কাজ চলছে। গঙ্গার বন্যায় ভুতনি দ্বীপাঞ্চলে ত্রাণ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে মালদা জেলা প্রশাসন উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে একটি জোনাল রিলিফ অফিস চালু করেছে।
ভুতনিতে এই নিয়ে পরপর তিন বছর বন্যা মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। নদী ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য দুই সরকারের বিরুদ্ধেই। এবারও গোড়া থেকে ত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সিপিআই(এম) কর্মীরা। বাঁধ কেটে জল বের করা থেকে দ্রুত সহায়তার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন কয়েক দফায়।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, জোনাল রিলিফ অফিস থেকে বুথ ও বসতি-ক্লাস্টারভিত্তিক ত্রাণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুকনো খাবার, ওষুধ, পশুখাদ্য, নৌকা, জেনারেটর এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী স্থানীয় স্তরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জলবন্দি ও দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে না এবং প্রশাসন আরও কাছ থেকে তদারকি ও সহায়তা প্রদান করতে পারবে।
তবে একের পর গ্রামে দেখা যাচ্ছে বেগুনি শাড়ি পরা আশাকর্মীদের। বন্যার জলে কোনও কোনও এলাকায় বাড়ির ছাদ পর্যন্ত ডুবে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল। বন্যা পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের গুরুতর আশঙ্কা থাকে। আশাকর্মীরা গ্রামে ভেতরে পৌঁছে গ্রামবাসীদের খোঁজ নিচ্ছেন। মহিলাদের নিয়ে আসছেন স্বাস্থ্য শিবিরে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কর্মী হয়ে কাজ করলেও সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি দেওয়া হয় না আশাকর্মীদের। দেওয়া হয় না বেতন। সামান্য ভাতা দিয়ে কাজ করানো হয়। অথচ দেশের জনস্বাস্থ্যের কাঠামো তাঁদের ওপরই নির্ভর করে রয়েছে।
Comments :0