সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কঙ্কালসার চেহারা ফের প্রকট হলো উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে। স্বাস্থ্য দফতরের একতরফা ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে একসঙ্গে ১২ জন চিকিৎসককে বদলি করা হলেও পাঠানো হলো না একজনও বিকল্প চিকিৎসক। এর মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের ১০ জন সিনিয়র রেসিডেন্ট এবং আরও দুই জন চিকিৎসককে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করে একসঙ্গে এতজন চিকিৎসককে সরিয়ে নেওয়ায় কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে সীমান্তবর্তী এই মহকুমার একমাত্র বড় সরকারি হাসপাতালটির চিকিৎসা পরিষেবা।
হাসপাতাল সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বদলির কোপে পড়েছে সুপার স্পেশালিটি ভবনের সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটেও। আশঙ্কাজনক নবজাতকদের বাঁচিয়ে রাখার অন্যতম ভরসাস্থল এই এসএনসিইউ বিভাগ থেকে ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে সদ্যোজাতদের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, শূন্যপদে অবিলম্বে যোগ্য চিকিৎসক না পাঠালে এই বিভাগে শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
চিকিৎসক ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগে। ইসলামপুর মহকুমা ছাড়াও সংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার গরিব মেহনতী মানুষের প্রতিদিনের ভরসা এই হাসপাতাল। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী আসেন। মেডিসিন, সার্জারি, প্রসূতি ও শিশুবিভাগে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক না পেয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা টিকিট কেটে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসক কম থাকায় একজন চিকিৎসককেই দেখতে হচ্ছে শয়ে শয়ে রোগী, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসার মান। ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এই চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে স্থানীয় শিক্ষক নেতৃত্ব রঘুপতি মুখার্জী বলেন, গরিব মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে প্রশাসন। যেখানে দিন দিন রোগীর চাপ বাড়ছে, সেখানে শূন্যপদ পূরণ না করে ঢালাও বদলি আসলে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বেসরকারি নার্সিংহোমের হাতে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বরাবরের মতোই পরিস্থিতি লঘু করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের সাফাই, এটি নাকি রুটিন বদলি এবং এতে পরিষেবা ব্যাহত হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কাগজে-কলমে পরিষেবা 'স্বাভাবিক' দেখানোর প্রশাসনিক বয়ান দিয়ে কি খালি ওপিডি আর ধুঁকতে থাকা এসএনসিইউ-এর বাস্তব সংকট আড়াল করা সম্ভব? অবিলম্বে শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ না হলে গণবিক্ষোভের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় নাগরিকরা।
হেলথ সার্ভিস ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ইসলামপুরের সম্পাদক ডঃ সায়ন্তন কুন্ডু বলেন, হাসপাতালে যখন ডাক্তাররা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকেন তখনই রোগীরা ভালো পরিষেবা পাননা, আর এক সঙ্গে এত জন চিকিৎসক চলে যাওয়ায় পরিষেবা প্রভাবিত হওয়া স্বাভাবিক। আমরা চাই উন্নত পরিষেবা দিতে অবিলম্বে বদলি হওয়া চিকিৎসকদের জায়গায় অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ হোক।
12 doctors transferred from Islampur Hospital
ইসলামপুর হাসপাতাল থেকে বদলি ১২ চিকিৎসকের, করা হচ্ছেনা নতুন নিয়োগ, লাটে উঠেছে পরিষেবা
×
Comments :0