পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় জনতা। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় কে আসবে? সোমবার ভোট গণনা শুরু হলেই এই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা ঘিরে প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কোন কোন গণনাকেন্দ্রে, কীভাবে ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলল নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি আসনে সুষ্ঠু ও দ্রুত গণনা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ৪৫৯টি কাউন্টিং হল, চার হাজার ৮০০ গণনা টেবিল এবং আলাদা ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ব্যাবস্থা রয়েছে। যাতে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা যায়। পোস্টাল ব্যালট এবং ইলেকট্রনিকালি ট্রান্সমিটেড পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম এই দুই প্রক্রিয়ার জন্য ৩২২টি হল এবং ১ হাজার ৬৮৭টি টেবিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফলতা বাদে রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। গণনা প্রক্রিয়া দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ রাখতে কমিশন এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতিতে। জেলা ভিত্তিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিঙ, কালিমপঙ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং কলকাতার সব আসনের জন্য পৃথক কাউন্টিং সেন্টার নির্ধারিত হয়েছে। অনেক জেলায় একাধিক আসনের গণনা একই কেন্দ্রে হলেও আলাদা হল ও টেবিলে তা সম্পন্ন হবে। প্রতিটি গণনা কেন্দ্রেই থাকছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী, সিসিটিভির নজরদারি এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ধাপে ধাপে গণনা চলবে। স্ট্রংরুম খোলা থেকে শুরু করে রাউন্ডভিত্তিক ফল ঘোষণা, সব ক্ষেত্রেই কড়া নজরদারি থাকবে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে একযোগে খুলবে ইভিএম ও স্ট্রংরুমের সিল। কমিশন সূত্রে খবর, গণনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে বলবৎ থাকবে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা, যা আগে ১৪৪ ধারা নামে পরিচিত ছিল। ফলে ওই এলাকায় জমায়েত, বিক্ষোভ বা অযাচিত ভিড় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পাঁচ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে তিন স্তরের বলয়। প্রথম স্তরে থাকবেন কলকাতা পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্টরা। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ মোতায়েন। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ে থাকবেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। এই তিনটি স্তর পার করেই গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। যাঁদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে—গণনাকর্মী, সরকারি কর্মী, প্রার্থী বা কাউন্টিং এজেন্ট—সকলকেই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। তার পরে আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। ভিতরে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি সিগারেট, লাইটারও নিয়ে যাওয়া যাবে না। কেবলমাত্র একটি সাদা কাগজ ও একটি কলম সঙ্গে রাখা যাবে। রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টদের ক্ষেত্রেও এবার নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাঁদের বিশেষ ধরনের পরিচয়পত্রে প্রথম বার যুক্ত করা হয়েছে কিউ-আর কোড। প্রবেশের আগে সেই কোড স্ক্যান করে সমস্ত তথ্য যাচাই করবেন কমিশনের আধিকারিকেরা। সব কিছু মিলে গেলেই মিলবে ভিতরে ঢোকার অনুমতি পাওয়া যাবে। সংবাদমাধ্যমের জন্যও রাখা হয়েছে আলাদা জায়গা। দ্বিতীয় নিরাপত্তা স্তরের পরে নির্দিষ্ট এলাকায় বসার ব্যবস্থা থাকবে সাংবাদিকদের। সেখান থেকেই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কর্মীরা প্রতি মুহূর্তে আপডেট দেবেন। নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে গণনা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট অংশে নিয়ে গিয়ে ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
সকালেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাঁর অনুমোদিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্ট্রংরুমের সিল খোলা হবে। সেখানে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং অবজার্ভার, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। স্ট্রংরুম খোলার পর প্রথমে বার করা হবে পোস্টাল ব্যালট। সেগুলির গণনা হবে আলাদা কক্ষে। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে একে একে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট এনে গণনা টেবিলে রাখা হবে। প্রতিটি গণনা টেবিলের চারপাশে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। ভিতরে থাকবেন গণনাকর্মীরা, বাইরে বসবেন রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টরা। প্রথমে জাতীয় দলের প্রতিনিধিরা, তার পরে রাজ্য দলের, তারপর নির্দল এবং সবশেষে অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা বসার সুযোগ পাবেন।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায়। প্রতি রাউন্ডের ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে পাঠানো হবে। সেখানে হিসাব মেলানোর পর তা যাচাই করবেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার। এরপর প্রথমে সাক্ষর করবেন রিটার্নিং অফিসার, তার পরে কাউন্টিং অবজার্ভার সই না করা পর্যন্ত কোনও ফলাফল বাইরে জানানো যাবে না। অবজার্ভারের সইয়ের পরই আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল ঘোষণা হবে এবং একই সঙ্গে তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। তবে ইভিএমের রাউন্ড শেষ হয়ে গেলেও পাশের ঘরে চলতে থাকবে পোস্টাল ব্যালটের গণনা। কারণ পোস্টাল ব্যালট গুনতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। সব শেষে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটের মোট ফল যোগ করেই ঘোষণা করা হবে জয়ী প্রার্থীর নাম।
কাল গণনা শেষে ফলাফল। এবার, কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ এক্সিট পোলই তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান, রাজ্যে পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
Assembly Elections 2026
রাজ্যের ২৯৩ আসনের ভোট গণনা কাল
×
Comments :0