শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের মৃত্যুতে থমথমে চন্ডিপুর এলাকা। মৃত চন্দ্রনাথ রথের বাড়ি চন্ডিপুর ব্লকের কুলুপ গ্রামে। আদতে শান্ত পরিবেশের একটা গ্রাম ক্ষোভে ফুসছে। এই ঘটনার পর থেকেই এই গ্রাম সহ চন্ডিপুর ব্লকের একাধিক তৃণমূল নেতারা ঘরছাড়া। চন্ডিপুর বাজার থেকে ঈশ্বরপুর হয়ে কুলুপ গ্রামে যেতে হয়। বাজার থেকেই সাধারণ মানুষের চোখে মুখে থমথমে ভাব। কেউ সহজে মুখ খুলছেনা। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুতে সংখ্যালঘুদের মধ্যেও একটু ভয় রয়েছে। সেটা কেমন? কুলুপ গ্রামে যাওয়ার রাস্তায় এক পথচারীর সাথে কথা বলে গ্রামে যাওয়ার রাস্তা জানতে চাইতে দেখিয়ে দিলেন তিনি। এরপরেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় এই মৃত্যুর ব্যাপারে। তিনি শুধু জানালেন ‘‘যারা মারল তাদের না ধরতে পারলে যত রাগ আমাদের উপর এসে পড়বে। আমি চাই যারা মারল তারা ধরা পড়ুক।’’ তাঁর নাম জানতে চাইলে বলতে চাইলেন না। শুধু আস্তে করে বললেন আমরা সংখ্যালঘু। মৃত চন্দ্রনাথ রথ সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত না থাকলেও যেহেতু শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক ছিলেন, ফলে তাঁর খুনে বিজেপির কর্মীদের ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে থাকাটা স্বাভাবিক।
এদিকে চন্ডিপুর বাজার এলাকাতেও এই ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্যাপক। একজন বললেন ‘‘সাধারণ মানুষ সবাইযে বিজেপিকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছে তা নয়। তৃণমূলের উপর রাগে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মানুষ মনে করেছে বিজেপি এখন বিকল্প। তা বলে এভাবে খুন হতে হবে একজনকে যে কিনা সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত নয় এটা মানা যায়না।’’ আর একজন বললেন ‘‘শুভেন্দু বাবুর উচিত এর আগে ওনার সিকিউরিটি গার্ড সহ আপ্ত সহায়ক যাদেরই খুন বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনার সাথে সাথে সেগুলোর তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।’’ মৃত চন্দ্রনাথ রথের পরিবার সহ প্রতিবেশী আত্মীয় পরিজনরাও চাইছেন দ্রুত চোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রসঙ্গত মৃত চন্দ্রনাথ রথ ২০০০ সালে জলচক হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ২০০২ সালে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ভারতীয় বায়ুসেনাতে কর্মরত ছিলেন। পরিবারে মা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী রয়েছেন। প্রথম থেকেই এই পরিবার তৃণমূল সমর্থক ছিল। শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দীর্ঘদিন ধরেই সুসম্পর্ক রয়েছে মৃত রথের পরিবারের। মা হাসি রথ চন্ডিপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন একসময়। সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর প্রথম থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী ছিলেন চন্দ্রনাথ। পরে বিরোধী দলনেতা থাকার সময় থেকে তাঁর আপ্ত সহায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিন কুলুপ গ্রামের কয়েকজন জানালেন বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর সাথে নন্দীগ্রামে এসেছিলেন চন্দ্রনাথ। ফেরার পথে চন্ডিপুরে একটি গেস্ট হাউসে বিজেপির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা সভাতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে মায়ের সাথে দেখা হয়। একসাথে খাওয়াদাওয়া করে কলকাতা ফিরেছিলেন। পরিবার সূত্রের খবর বৃহস্পতিবার রাতে এক আত্মীয়র অনুষ্ঠানে আসার কথাও ছিল চন্দ্রনাথ রথের। তিনি শান্ত ও মিশুকে স্বভাবের ছিলেন বলেই জানান প্রতিবেশীরা।
উল্লেখ্য এর আগে প্রদীপ ঝা, শুভব্রত চক্রবর্ত্তী, পুলক লাহিড়ী নামে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। যারা শুভেন্দু অধিকারীর সিকিউরিটি গার্ড ও ছায়া সঙ্গী ছিলেন। এঁরা প্রত্যেকেই শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত ছিলেন।
Chandranath Rath
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু, থমথমে চন্ডিপুর
×
Comments :0