দিল্লির করকরডুমা আদালতে কর্মরত ৩০ বছর বয়সী এক বিচারকের দেহ উদ্ধার। শনিবার দক্ষিণ দিল্লির গ্রিন পার্কের বাড়িতে তাঁর শৌচাগার থেকে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি কল পায়, যেখানে জানানো হয় যে গ্রিন পার্কের বাসিন্দা বিচারপতি আমান কুমার শর্মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। যিনি ফোন করেছিলেন তাঁকে বিচারপতির শ্যালক শিবম হিসেবে শনাক্ত করেছে। তিনি দিল্লির ডিফেন্স কলোনির বাসিন্দা। সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশ একটি পিসিআর কল পায়। সেই কলে, মৃত বিচারপতির শ্যালক শিবম জানান, আমান শর্মা বাথরুমে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন। এরপর পুলিশ সেই বাড়িতে পৌঁছে শৌচাগারের ভেতরে বিচারককে দেখতে পায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত বিচারকের আত্মীয় রাজেশ শর্মা জানান, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে আমান তাঁর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ফোনে আমান বলেন, তার জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজেশ শর্মার মতে, আমানের তার স্ত্রীর সঙ্গে কিছু বিবাদ হয়েছিল। আমানের স্ত্রীও একজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। তাঁর বোন জম্মুতে কর্মরত একজন আইএএস আধিকারিক। রাজেশ শর্মা জানান, স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের পর ছেলেকে মনমরা দেখে আমানের বাবা শনিবার রাজস্থানের আলওয়ার থেকে দিল্লিতে আসেন। তিনি আমান এবং তার পুত্রবধূ দুজনকেই সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি তাঁর পুত্রবধূর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন। রাজেশ শর্মার মতে, আমানের বাবা বলেছেন, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর আমান কাঁদছিল। কিছুক্ষণ পরও সে ঘরে না আসায় তার বাবা ফোনে কল করেন। বাথরুম থেকে ফোনটি বেজে ওঠে। যখন তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা দেখতে পান যে তিনি তাঁর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ঝুলছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে, পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। পুলিশ পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ বিচারক আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন।
Judge Found Dead
দিল্লিতে বিচারকের দেহ উদ্ধার, সন্দেহ আত্মহত্যা
×
Comments :0