fire at Delhi

দিল্লির বিবেক বিহারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড: আটকে পড়ে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

জাতীয়

একদিকে জানলায় লোহার গ্রিল এবং অন্যদিকে ছাদে যাওয়ার দরজায় তালা বাঁচার আর কোন পথ খোলা ছিল না। যার ফলে দিল্লির একটি আবাসিক ভবনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার দিল্লির বিবেক বিহারের ওই ভবনে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভবনের ত্রুটিপূর্ণ নকশা। বেসমেন্ট এবং চার তলা বিশিষ্ট এই ভবনে ওঠানামার জন্য মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল এবং কোন জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit) ছিল না। প্রতিটি তলায় দুটি করে ফ্ল্যাট এমনভাবে তৈরি, যার একটি সামনের দিকে এবং অন্যটি পেছনের দিকে।
ভবনের পেছনের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়লে, গ্রিলের কারণে জানলা দিয়ে লাফ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আগুন ততক্ষণে সামনের দিকেও ছড়িয়ে পড়ায় পেছনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকজন বাঁচার জন্য সিঁড়ি দিয়ে ছাদের দিকে দৌড়ালেও, ছাদের দরজা তালাবন্ধ থাকায় তারা সেখানেই আটকে পড়েন। তীব্র ধোঁয়া ও গরমে দমবন্ধ হয়ে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
রবিবার ভোর সাড়ে ৩টের দিকে যখন বেশিরভাগ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দুটি ভবনের মাঝে কোন ফাঁক না থাকায় আগুন খুব সহজেই পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ভেতরে আটকে পড়া মানুষ ও শিশুদের বাঁচার তীব্র আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। দুজন শিশু ভবনের সামনের দিক থেকে লাফ দেওয়ারও চেষ্টা করে বলে জানা গিয়েছে।
খবর পেয়েই পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুন মূলত ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, দুটি পরিবারের মোট ৯ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম তলা থেকে একটি, দ্বিতীয় তলা থেকে পাঁচটি এবং তালাবন্ধ সিঁড়ি থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। তবে রোহিত নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের ফলেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

Comments :0

Login to leave a comment