শাসকের চরম অনীহা আর গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের জাঁতাকলে পিষ্ট ডুয়ার্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য শহর ধূপগুড়ি। দীর্ঘ ৪ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও ধূপগুড়ি পৌরসভায় ভোট করানোর ন্যূনতম গরজ দেখায়নি তৎকালীন সরকার। ২০১৭ সালের ভোটে নির্বাচিত পৌর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ গণতন্ত্র এখানে ‘বিশ বাঁও জলে’। এক সময়ের সচল জনপরিষেবা কেন্দ্র আজ নিছক এক 'প্রশাসনিক আস্তাবলে' পরিণত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, "আসন পুনর্বিন্যাস আর সংরক্ষণের তালিকার ফাইল নবান্নের ঠান্ডা ঘরে ধুলো মাখছে। এটা নিছক প্রশাসনিক দেরি নয়, বরং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খুন করার সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।" ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যে ‘প্রশাসক বোর্ড’ গড়া হয়েছিল, তা আদতে ছিল লুটেরাদের আখড়া। বর্তমানে জনপরিষেবা একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের টেবিলে বন্দি। ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে।
একদা যে ভবন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে গমগম করত, আজ সেখানে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। আধিকারিকদের দেখা পাওয়া লটারি জেতার সমান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় কর্মীদের একাংশ চূড়ান্ত অপদার্থতা ও ‘ছুটির মেজাজে’ দিন কাটাচ্ছেন।
পৌর নাগরিক প্রবীর কুন্ডু অভিযোগ করেন নিকাশি নালা থেকে রাস্তাঘাট— রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধূপগুড়ি আজ নরককুণ্ড। মিউটেশন ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে।
পৌরভোট নিয়ে ক্ষোভ এখন পাহাড়প্রমাণ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে তৎকালীন শাসকদলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— জিতলেই ৬ মাসের মধ্যে ভোট হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি যে কেবল নির্বাচনী চমক ছিল, তা আজ প্রমাণিত। বর্তমানে রাজ্যে পালা বদলের ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রে তথাকথিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসীন। এখন দেখার ধূপগুড়ি পৌরসভার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় কি না । নাকি লোক দেখানো ‘রাজনৈতিক প্রশাসক’ বসিয়ে লুটপাটের নতুন ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটাই এখন দেখার।
ধূপগুড়ির মানুষ আর ফাঁপা আশ্বাস বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা চায় না। ধূপগুড়ির পৌর নাগরিকদের সাফ কথা— কোনো ‘অ্যাড-হক’ বা ‘মনোনীত’ ব্যবস্থা নয়, সাংবিধানিক অধিকার মেনে অবিলম্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বোর্ড গঠন করতে হবে।
বঞ্চনার পাহাড় জমছে, আর তার পাল্টা জবাব দিতে এখন থেকেই ধূপগুড়ির অলিতে-গলিতে জনমত সংগঠিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন বামপন্থী কর্মীরা।
Dhupguri Municipality Election
চার বছর অতিক্রান্ত, তবুও হয়নি ধূপগুড়ি পৌরসভার নির্বাচন
×
Comments :0