প্রায় সাত বছর আগে অনেক ঘটা করে উত্তর দিনাজপুর নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির অধীন ইসলামপুরের তিনপুল বাজারে ই অকশন বাজার খোলার কথা সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘোষনা করেছিল । কিন্ত তা এত বছর পার হয়ে গেলেও আজও সেই বাজার না খোলায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কৃষিজীবিদের মধ্যে। ইসলামপুর মহকুমার কৃষিজীবিদের অভিযোগ, কৃষি বাজার হিসাবে চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী ওই বাজারগুলিতে আনা হলে তা গ্রেডিং করে ই বাজারের নিলামে ছাড়ার সুযোগ পেত চাষিরা। প্রায় দেড় বছর আগে ওই বাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও- তা আজও কার্যকর হয়নি।
কৃষক ও কৃষি পণ্য ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছে, ওই বাজার চালু হলে রাষ্ট্রীয় কৃষি বাজারে কৃষক কিংবা কৃষিপন্য ব্যবসায়ীদের আমদানি করা কৃষি পণ্য শ্রেণি বিভাগ (গ্রেডেশন) ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে ই অকশনে তোলার সুযোগ পেত। তারমাধ্যমে ওই কৃষিপণ্য গোটা দেশের সামনে নিলাম হত। ওই ব্যবস্থা শুরু করতে গিয়ে চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় কৃষি বাজারে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করার কথা থাকলেও তা এখনও থমকে।
এদিকে কৃষি বিপনণ দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, ই বাজার চালু হলে কৃষকদের সামনে অধিক বিকল্প বাজারে দরজা খুলে যেতে পারত।কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের সর্বোচ্চ দাম পেতেন। অধিক মুনাফা পেলে কৃষকরা গুনগত মান ধরে রেখে উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে সচেষ্ট হতেন।
তারা আরও জানান, ক্ষুদ্র কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি করে ই বাজারে অংশ নিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা। এই উদ্যোগটি ভারত সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কৃষি বিপণন পর্ষদের উদ্যোগে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের কেনা পণ্যের সর্বাধিক মূল্য পাবেন।
সারা ভারত কৃষকসভার উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সুরজিত কর্মকার জানান, ই বাজার চালু হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা বেশি উপকৃত হত। ই বাজার চালু হলে ফড়েদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়ে যেত। ইসলামপুরে ই বাজার চালু না হওয়ার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারই দায়ী।
এদিকে উত্তর দিনাজপুর নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির এক আধিকারিক জানান, "প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় ওই বাজার চালু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। নতুন সরকার যদি এ ব্যাপারে কিছু করেন তবে এলাকার চাষীরা উপকৃত হবেন।"
Comments :0