ডুয়ার্সের চা বাগানগুলোতে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক বন্যপ্রাণের হামলা। চিতাবাঘ বা হাতির হানায় জখম হয়ে কর্মক্ষমতা হারানো কিংবা চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাওয়া শ্রমিক পরিবারগুলোর হাতে শেষমেশ আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দিল বনদপ্তর। শুক্রবার বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের তরফ থেকে কলাবাড়ি, মোগলকাটা, বানারহাট ও বিন্নাগুড়ি চা বাগানের ৫ জন জখম ব্যক্তির পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।
বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াড আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট চা বাগানগুলির ম্যানেজার এবং বনদপ্তরের রেঞ্জ অফিসাররা। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের পক্ষ থেকে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলাবাড়ি চা বাগানে চিতাবাঘের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিল ৪ বছরের শিশু প্রতিকা ওরাওঁ। সেই হাড়হিম করা ঘটনার পর থেকেই শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এদিন প্রতিকার বাবা রামান ওরাওঁ-র হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন আধিকারিকরা। বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, আঘাতের গুরুত্ব অনুযায়ী ২৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকার চেক বিলি করা হয়েছে। চা বলয়ের শ্রমিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বন্যপ্রাণের হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। বনদপ্তরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, শ্রমিক মহলের দাবি— কেবল আর্থিক সাহায্য নয়, বাগানে চিতাবাঘের উপদ্রব কমাতে ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।
Comments :0