Jalpaiguri Sand Mining

তিস্তা-চেল-ঘিসে আপাতত বন্ধ বালি লুট

জেলা

জলপাইগুড়িতে অভিযান প্রশাসনের। ছবি: দীপশুভ্র সান্যাল

বন্ধ রয়েছে বালি-পাথর খাদান লুট। রাজগঞ্জের রংধামালি এলাকায় পুলিশ ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে নিয়ে অভিযান চালান জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক মঈন আহমেদ। 
অভিযানে নদী থেকে বালি তোলার মেশিনপত্র, রাস্তার ধারে ডাম্পারের চিহ্ন এবং অবৈধ উত্তোলনের নানা প্রমাণ মিলেছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও প্রশাসন একাধিক মেশিন বাজেয়াপ্ত করেছে।
এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই নদী থেকে বালি পাচার চলছিল। ভয়ের পরিবেশে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। মহকুমা শাসক তাঁদের আশ্বস্ত করে জানান, বালি পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসন “জিরো টলারেন্স” নীতি নেবে।
তিস্তা, চেল ও ঘিস নদী এলাকায়  নদীখাতে এতদিন দিনরাত আর্থমুভার, জেসিবি ও ডাম্পারের গর্জন শোনা যেত। তৃণমূলের মদতে এই অবৈধ কাজকর্ম চলত। প্রতিবাদও হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি। নির্বাচনের পর, আপাতত, বালির লুট বন্ধ আছে। 
ওদলাবাড়ি এলাকায় জাতীয় সড়কেও ডাম্পারের দীর্ঘ লাইন উধাও। অভিযোগ, এতদিন একটি রয়্যালটি রসিদ দেখিয়েই একাধিকবার বালি–পাথর পাচার হতো।
এক ডাম্পার মালিকের কথায়, ‘নতুন সরকার নতুন গাইডলাইন আনতে পারে, তাই এখন কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছে না।‘
অবৈধ উত্তোলনে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির স্বাভাবিক চরিত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে পরিবেশপ্রেমীদের তরফে। তৃণমূল জমানায় বালিচোরদের দৌরাত্ম্যে উত্তরবঙ্গের নদীপাড়ের মানুষ ছিলেন অতিষ্ঠ।  বুলডোজারের দাপট দেখেছেন এলাকার মানুষ। এমনকি পাহাড়ি নদীর পাড়ে ক্রাসার বসিয়ে চলত নদী থেকে পাথর বালি তোলা। 
তবে অবৈধ খনন কতদিন বন্ধ থাকবে  সে দিকে তাকিয়ে জলপাইগুড়িবাসী। নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বন্দোবস্ত করে ফের বালি-পাথর লুট শুরু হয় কিনা সেটিও দেখার বিষয়। বিজেপি সরকারে রয়েছে এমন প্রায় সব রাজ্যেই কর্পোরেটের হাতে প্রাকৃতিক সম্পদ লুট হতে দেখা গিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment