Madhyamik 2026

উজ্জ্বল প্রাপ্ত নম্বরের তালিকা, ভবিষ্যতে গবেষক হতে চান ইসলামপুরের বেদশ্রুতি

রাজ্য জেলা

ইসলামপুরের মেয়ে বেদশ্রুতি সিনহা'র সাফল্যে গর্বিত গোটা শহর। এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে সকলকে চমকে দিয়েছে ইসলামপুর গার্লস হাই স্কুলের এই কৃতী ছাত্রী। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই পরিবার, বিদ্যালয় এবং এলাকাজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে।
বেদশ্রুতির প্রাপ্ত নম্বরের তালিকাও অত্যন্ত উজ্জ্বল। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে এবং জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ভৌতবিজ্ঞান ও অঙ্কে পূর্ণ ১০০ নম্বর পেয়েছে সে। এছাড়া ইতিহাস ও ভূগোলে তার প্রাপ্ত নম্বর ৯৯ করে। এই অসাধারণ ফলাফলের পিছনে রয়েছে তার কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী বেদশ্রুতি ভবিষ্যতে গবেষণার কাজে যুক্ত হতে চায়। বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখছে সে। বর্তমানে সে হায়দ্রাবাদের একটি বেসরকারি সংস্থায় কোচিং নিচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
বেদশ্রুতির এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি ইসলামপুর গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মনীষা সাহা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা খবরটি জানতে পেরে খুবই আনন্দিত। এত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও নিজের চেষ্টায় ও পরিশ্রমে বেদশ্রুতি এই সাফল্য অর্জন করেছে। তার জন্য আমরা তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা খুবই কম। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করা সম্ভব।”
বেদশ্রুতির বাবা বিনয় সিনহা পেশায় শিক্ষক। তিনি ইসলামপুরের স্টেট ফার্ম কলোনি হাই স্কুলে কর্মরত। মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা-মা। মা অনিতা রায় সিনহা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ও ভালো ফল করবে জানতাম, কিন্তু রাজ্যে পঞ্চম স্থান পাবে সেটা ভাবিনি। ওর এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত।”
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বেদশ্রুতির বাড়িতে শুভেচ্ছার ঢল নেমেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা সকলেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন। ইসলামপুরের বহু পড়ুয়ার কাছেও এখন অনুপ্রেরণার নাম বেদশ্রুতি সিনহা। তার এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বহু ছাত্রছাত্রীকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।

Comments :0

Login to leave a comment