Mamata Violence

অসত্য দাবি মমতার, জিতেই হিংসা ছড়িয়েছিল তৃণমূলও

রাজ্য

তৃণমূল শাসনে দখল ভাতার থানার বলগোনাতে পার্টি শাখা অফিস পুনরুদ্ধার করেছেন এলাকার মানুষ।

"আমরা যখন জিতেছিলাম, বলেছিলাম, কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। সিপিএমের কোনও পার্টি অফিস আমরা হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি ", মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এমনটাই দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মমতা ব্যানার্জির এই বক্তব্যের পরই বামপন্থী বিভিন্ন অংশ মনে করিয়েছে যে একেবারেই অসত্য কথা বলেছেন তৃণমূল নেত্রী। ২০১১’র নির্বাচনের পর তো বটেই, বারেবারেই হামলা হয়েছে সিপিআই(এম) কর্মীদের ওপর, ভাঙা হয়েছে বা দখল হয়েছে দপ্তর। যেমন নিয়মিত বিজেপি তা করে চলেছে ত্রিপুরায়।
নির্বাচনের পর বিবৃতিতে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক হিংসা, অশান্তির কোনো পরিবেশ যেন তৈরি না হয়। তাকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের কাছে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকের দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন কঠোর ভাবে বজায় রাখতে হবে।‘‘ 
কিন্তু এদিন তৃণমূল নেত্রীর দাবি প্রসঙ্গে বিভিন্ন অংশই মনে করিয়েছে যে তৃণমূল সরকার তৈরির প্রথম তিন মাসেই খুন করা হয়েছিল সিপিআই(এম)’র ৩০ জন নেতা ও কর্মীকে। 
ভোটের ফল বেরনোর পর চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে, গুলি করে নয়, স্রেফ পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় প্রাথমিক শিক্ষক এবং সিপিআই (এম) গড়বেতা জোনাল কমিটির সদস্য জিতেন নন্দীকে (৫৭)। তাঁর বাড়ি বেনাচাপড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নেড়াশোল গ্রামে। তৃণমূলীদের হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করেননি তিনি, কয়েকজন পার্টিকর্মীর সঙ্গেই তিনি ফলপ্রকাশের পরের দিন সকালেও এসেছিলেন মায়তায় পার্টি অফিসে।  গোয়ালতোড় সহ গড়বেতা এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে নিয়ে আচমকাই তৃণমূলীরা চড়াও হয় সেই পার্টি অফিসে। পার্টি অফিস থেকে তারা বের করে জিতেন নন্দীকে, মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায় সেই সশস্ত্রবাহিনী। স্রেফ পিটিয়েই তাঁকে খুন করে তাঁর মৃতদেহ পার্টি অফিস থেকে কিছুটা দূরে একটি খালের ধারে ফেলে রাখা হয়। পাশাপাশি, একইদিনে বর্ধমানের রায়নায় সিপিআই(এম) সমর্থক পূর্ণিমা ঘড়ুইকে শুধুমাত্র লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।
প্রথম তিন মাসে যে ৩০জন বামপন্থী কর্মী, নেতৃত্ব খুন হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১০ জন সংখ্যালঘু, ৩ জন আদিবাসী, ১১ জন তফসিলী জাতিভুক্ত। তার মধ্যে মহিলা ছিলেন তিন জন। রয়েছেন খেতমজুর, গরিব কৃষকরাও।

Comments :0

Login to leave a comment