দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
‘রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ‘— কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর পংক্তির আবহ জীবন্ত জলপাইগুড়ির বাজারে। ঈদকে সামনে রেখে শহরের মার্চেন্ট রোড, দিনবাজার চত্বর সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে বাজার এলাকা।
ঈদের বাজারে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের সেমাই (লাচ্ছা, সাদা, রোস্টেড), খেজুর, কিসমিস, বাদাম, চিনি, দুধের গুঁড়ো, আতর ও টুপি। পাশাপাশি পোশাকের দোকানগুলিতে শোভা পাচ্ছে শেরওয়ানি, পাঞ্জাবি, কুর্তা-পাজামা, ফতুয়া, বোরখা ও রকমারি হিজাব। শিশুদের জন্য রয়েছে রঙিন ফ্রক, টি-শার্ট ও জুতো।
মিষ্টির দোকানেও লাড্ডু, বরফি, খুরমা সহ নানা পদের মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে।
দিনবাজারের এক পোশাক ব্যবসায়ী রহমান আলি বলেন, “প্রতি বছরই ঈদের আগে ভালো বিক্রি হয়, তবে এ বছর দাম বাড়ায় ক্রেতারা একটু হিসেব করে কিনছেন। তবুও ভিড় কম নেই।” অন্যদিকে মার্চেন্ট রোডের ক্রেতা সাকিনা বানুর কথায়, “ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন জামা কিনতেই হয়। দাম বেশি হলেও ঈদ বলে কথা।”
একইসঙ্গে সামনে পয়লা বৈশাখ থাকায় বাজারে চলছে বিশেষ ছাড়ের সেল। শীতের পোশাক সরিয়ে গ্রীষ্মকালীন নতুন কালেকশন তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে অনেকেই এই সুযোগে একসঙ্গে ঈদ ও নববর্ষের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।
তবে উৎসবের এই আনন্দের মাঝেই রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ছায়া। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের বাজেটে চাপ ফেলেছে। অনেকের আত্মীয়-পরিজন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকায় সেই অস্থিরতার প্রভাবও অনুভূত হচ্ছে।
তবে সব মিলিয়ে দামের চাপ ও অনিশ্চয়তার মাঝেও জলপাইগুড়ির ঈদের বাজারে উৎসবের রঙ।
Comments :0