Bus Falls Into Bangladesh River

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে বাস, বহু হতাহতের আশঙ্কা বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: ঢাকা 
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে যাত্রী বোঝাই বাস। উদ্ধার কাজ ব্যাহত বহু হতাহতের আশঙ্কা। একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। বাসটিতে ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের। সেটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ীর কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ বলেন,‘'বাসটির চালক ও সহকারীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।’ এখনও পর্যন্ত উদ্ধার সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ অনেকে। 
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেলে  দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের ভেসেলে ওঠার সময় পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়ে সেখানে নদীর গভীরতা অনেক বেশি। ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি উদ্ধার করা যায়নি। বাসের যাত্রীদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন বলে অনুমান। উদ্ধারকারী দল বিআইডব্লিউটিসি, গোয়ালন্দ ঘাট থানা, দমকল বিভাগ ঘটনাস্থলে রয়েছে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মহম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। সুলতানা আক্তার বলেন, ‘‘সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে রওনা হয়েছিল। কুষ্টিয়ার যাত্রী ছিল ২০ থেকে ২৫ জনের মতো। রাজবাড়ীর পাংশায় কিছু যাত্রী উঠেন। পরে আরও কিছু যাত্রী উঠেছেন বাসটিতে। ফেরিতে ওঠার সময় মাত্র ৩ জন যাত্রী বাইরে ছিলেন। বাকিরা গাড়িতেই ছিলেন। গাড়িটির গতি অনেক বেশি ছিল। সে কারণে ফেরিতে ওঠার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে।’’ আক্তার আরও জানান, ৭ জনের মতো যাত্রী নদী থেকে উঠতে পেরেছেন। বাকিরা বাসে থাকার কথা। সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ বা ৪০ জনের মতো যাত্রী হতে পারে। ৬ জন ডুবুরি নদীতে নেমেছে। নদীতে পড়ে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসেছে। ঢাকা থেকে আরও ডুবুরি আসছে।’’ শেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে এদিন রাতে দুইজন মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে। ১১ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। তবে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাসটিতে মহিলা ও শিশুও যাত্রী ছিল। ফরিদপুর দমকল বিভাগের আধিকারিক মহম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, অনুমান করা হচ্ছে ৪০ জনের মতো যাত্রীর দেহ জলের নিচে রয়েছে। ফরিদপুর দমকল বিভাগের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।

Comments :0

Login to leave a comment