Post Poll Violence

গেরুয়া তাণ্ডবে রণক্ষেত্র ডুয়ার্স

জেলা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হলো চরম অরাজকতা। মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই বানারহাট ও লাগোয়া এলাকায় দাপাদাপি শুরু করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, স্রেফ গায়ের জোরে বানারহাট ২ নম্বর ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় দখল করে সেখানে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এমনকি চামুর্চি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিজয়োল্লাসের নামে এলাকায় উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। চামুর্চি এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে উন্মত্ত জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউট এবং গুরুত্বপূর্ণ দলীয় ও সরকারি নথিপত্র রাস্তায় বের করে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, এলাকা দখলের আস্ফালন দেখাতে ওই নীল-সাদা রঙের কার্যালয়টিকে রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ছবি শুধু চামুর্চিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত। খবর পাওয়া গেছে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও জবরদখল, তৃণমূল কার্যালয় দখল করে বিজেপির পতাকা উত্তোলন। এই নজিরবিহীন তাণ্ডব প্রসঙ্গে বিজেপির বানারহাট মন্ডল কনভেনার সুরেশ থাপা পালটা অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল তাঁদের কোণঠাসা করে রাখত। তাঁদের অভিযোগ, কোনো বোর্ড মিটিংয়ে তাঁদের ডাকা হতো না। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরের ক্ষোভের দোহাই দিয়ে এই ধরণের প্রকাশ্য গুন্ডামি ও অগ্নিসংযোগ আসলে এলাকায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা।
বাম নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, এক স্বৈরাচারের জায়গা নিতে চাইছে আরেক স্বৈরাচার। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Comments :0

Login to leave a comment