ভোট পরবর্তী হিংসায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠলো সন্দেশখালি। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় থানার ওসি সহ তিন পুলিশ কর্মী ও ২ সিআরপিএফ জাওয়ান। আহত পুলিশ কর্মীদের প্রথমে মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতাল এবং পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। আপাতত সবাই স্থিতিশীল বলে বসিরহাট পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক ধড়পাকড়। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে ৭দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠানো হলে ধৃতদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। বুধবার আদালত সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে। এলাকায় চলছে পুলিশি টহল। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুরুষশূন্য গোটা এলাকায় এখন শুধুই আতঙ্কের বাতাবরণ। মঙ্গলবার গভীর রাতের এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হলো সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর সন্দেশখালি আছে সন্দেশখালিতেই। বলছে রাজবাড়ী। উত্তর ২৪পরগনার ন্যাজাট থানার অন্তর্গত সরবেড়িয়া আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর বামনঘেরি এলাকার আজগাড়া গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকাল থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিটপোল এলাকায়। তৃণমূল এবং বিজেপি যুযুধান দুই পক্ষ সেখানে জড়ো হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মূহুর্তে শুরু হয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি বিনিময়। খবর পেয়ে ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়স্থের নেতৃত্বে রাজবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী কেন্দ্রীবাহিনীকে (ক্যুইক রেসপন্স টিম) নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় ন্যাজাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক ভরত প্রসূন পুরকায়স্থের পা গুলিবিদ্ধ হয়। সেই সাথে গুলিবিদ্ধ হন রাজবাড়ী আউটপোস্টের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ভাস্বত গোস্বামী এবং দুই সিআরপিএফ জাওয়ান। তাদেরকে রাতে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে দ্রুত তাদেরকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরী হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ‘‘সন্ত্রাসের আঁতুর ঘর সন্দেশখালি। যে কোন সময় ফের অগ্নিগর্ভ হতে পারে। খুনের পর খুন, যার হদিশ পাওয়া যায় না। ভোটের পরেও সন্দেশখালির মানুষ আতঙ্কের মধ্যে। টহলদারি পুলিশ ও সিআরপিএফের উপর দুষ্কৃতকারীদের গুলি চালানো মানুষকে আরও বেশী আতঙ্কিত করেছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে হবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
Sandeshkhali
ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে গিয়ে সন্দেশখালিতে গুলিবিদ্ধ ওসি, পুলিশ সদস্য সহ আহত ২ জওয়ান
×
Comments :0