protests to protect voting rights

ভোটাধিকার রক্ষায় ৩০-৩১ বিক্ষোভের ঘোষণা সেলিমের

রাজ্য কলকাতা বাংলা বাঁচানোর ভোট

কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকারই। সংবিধানের ওপরই নামছে আঘাত। ৩০ এবং ৩১ মার্চ রাজ্যজুড়ে ভোটাধিকার রক্ষার দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে সিপিআই(এম)।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুজফ্‌ফর আহমদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি জানান যে ভোটাধিকার বিবেচনার ট্রাইবুনালে বিচারের সুবিধার জন্য রেড ভলান্টিয়ার হিসেবে আইনজীবী স্বেচ্ছাসেবকরা থাকবেন। সিপিআই(এম) সেই ব্যবস্থা করছে। 
সেলিম বলেছেন, ‘‘রাজ্যে ভোটের আগে ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। সংবিধানকে মেনে সংসদীয় গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। ৩০ ও ৩১ মার্চ,  বিক্ষোভ ও ধর্ণা হবে। প্রার্থীরা এই বিক্ষোভে থাকবেন।’’ 
সব অংশের মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা ঠিক না হলে ভোট ঠিক হতে পারে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘যেসব মানুষ এসআইআর পর্বে তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন, যাঁদের নাম ওঠেনি কিংবা এখনও বিবেচনাধীনের তালিকা রয়েছেন, তারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা এবং বিক্ষোভে থাকবেন।’’ 
এদিন সেলিম বলেন, ‘‘আরএসএস-বিজেপি গণতন্ত্র মানে না। যে কোনও স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এরা সংসদীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চায়।  বাংলার মানুষ ভোট কাকে দেবেন পরের কথা। তবে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভোটাধিকার রক্ষার পক্ষে থাকবেন নাকি যারা ভোটাধিকার লুট করতে চাইছে তাদের পক্ষে থাকবেন।’’ সেলিম বলেন, ‘‘মোদীর ‘ডেমোগ্রাফিক মিশন‘ হচ্ছে বিভাজন সৃষ্টি করা। কোথাও ধর্ম, কোথাও ভাষা আবার কোথাও এলাকা দেখে বিভাজন করতে চাইছে। সেইসঙ্গে আরএসএস অপপ্রচার করে, রোহিঙ্গা জেহাদি ইত্যাদি করে মানুষের উপর অত্যাচার নামিয়ে আনছে। এখন এই কাজে কমিশনকেও ব্যবহার করছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, সেই কারণেই আজকে ভোটাধিকার রক্ষা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ 
রাজ্যে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ ঘিরেও বিস্তর অস্বচ্ছতা। সোমবার মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশের পর তা দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবারও অনেকে অনলাইনে তা দেখতে পাননি অনেকে। মাঝে সবার নাম বিবেচনাধীন হয়ে যায়। কমিশন বলে ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে। বুধবার কমিশন জানায় ৩২ লক্ষ নাম বিবেচনা করা হয়েছে। ১৩ লক্ষ বাদ। কিন্তু ১০ লক্ষের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। বিবেচনাধীন প্রায় ৬১ লক্ষ নাম। ফলে তীব্র অনিশ্চয়তা গোটা রাজ্যে।
সেলিম বলেন, ‘‘বিচারাধীন কেন? যারা আনিস খানকে খুন করেছে, যারা কালোবাজারি করছে, কয়লা-সোনা পাচার করছে, উৎসবের নাম করে দাঙ্গায় উসকানি দেয়, তাদের তো বিচার হওয়ার কথা। বিচারালয় বা তদন্ত সংস্থার সময় নেই। আর বিচারপতি নানা রাজ্য থেকে এনে বিচারালয় বিবেচনার দায়িত্ব নিয়েছে ভোটার তালিকা বিচার করার। ভোটার তালিকা করার কাজ কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের। সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্বভাগ করা হয়েছে। বিধানসভা, সংসদ ব্যর্থ। প্রশাসন ব্যর্থ।’’
তিনি বলেন, ‘‘সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভাকে কাজ করতে হয়। প্রস্তাব আনতে হয়, আইন করতে হয়। এখানে বিধানসভা ব্যর্থ। তামিলনাডু, কেরালা পারল। দেশের সংসদও ব্যর্থ। মমতা ব্যানার্জি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে নিরসনের চেষ্টা করতে পারতেন। সেটা করেননি। দাঙ্গাবাজকে মন্ত্রী করেন, দাঙ্গা আটকানোর জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারেন না। ভোটাধিকার রক্ষার জন্যও সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দাঁড়ানোর দরকার ছিল। একাজে মুখ্যমন্ত্রী ব্যর্থ।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘বাংলা বাঁচানোর কথা বলছি এ কারণে যে সংসদীয় গণতন্ত্র বাঁচাতে হবে। ভোটাধিকার কেড়ে নিলে সংসদীয় গণতন্ত্র বাঁচবে না। মানুষই বিচার করবেন। কোনও বিচারালয় বিচার করতে পারে না।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘গোটা প্রক্রিয়া বিজেপি আর তৃণমূল ঘেঁটেছে। প্রশাসন মানুষের নথি বিচারপতিদের কাছে হাজির করেনি। তাই যে সকল ভোটপ্রার্থী, ভোটদাতা, ভোটার লিস্টে যাদের নাম ওঠেনি তাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য, সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার রাজ্যের সব জায়গায়  ৩০-৩১ মার্চ বিক্ষোভ ও ধর্ণা দেবেন।’’
সেলিম বলেন, ‘‘এই কার্যকলাপ নয়া ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার একটি ধাপ। কমিশন জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই কমিশনের পক্ষে নির্বাচন ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার কাজ করা সম্ভব নয়।’’
সেলিম বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ বিজেপি-তৃণমূলকে পরাস্ত করার পক্ষে। তারজন্য ঐক্য গড়ার পক্ষে। টাকা খরচ করেও বাইনারি প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না তৃণমূল বিজেপি। কৃষকের সঙ্কটে বিজেপি বা তৃণমূল ঝাঁপিয়ে পড়েনি। গ্যাস সঙ্কটে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আমরা চাই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নির্বাচন হোক। কে যুদ্ধের পক্ষে। কে শান্তির পক্ষে বিবেচিত হোক। সরকারি শিক্ষা, কৃষিকাজ থেকে কাজের দাবি নিয়ে নির্বাচন হোক। কর্মক্ষম প্রত্যেকের কাজ ও আয় নিয়ে লড়াই হোক। মন্দির-মসজিদ নিয়ে নয় বাংলার মানুষ তার এলাকা, কাজ বাঁচাতে উন্মুখ। তাই মানুষ বুঝছেন বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। তাই বিজেপি-তৃণমূল ভয় পেয়েছে।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘দেশে-রাজ্যে গণতন্ত্রের অক্সিজেন কমে যাচ্ছে। আইনি অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ১৯টি ট্রাইবুনালে রেড ভলান্টিয়ার  লিগাল এইড তৈরি। পাশাপাশি সেখানে আইনজীবী রাও উপস্থিত থাকবেন। সব ফোন নম্বর দেওয়া হবে সোশাল মিডিয়ায়। রাজ্যজুড়ে আগামী কয়েকদিন সহায়তা দেবেন।’’

Comments :0

Login to leave a comment