Islampur

মাসে ১দিন আসেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার করুণ চিত্র ইসলামপুরে

জেলা

রামগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ছবি: তপন বিশ্বাস।

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিদায়ী সরকার অনেক ঢাকঢোল পেটালেও বাস্তবে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবার করুণ চিত্র ফের সামনে এল ইসলামপুরের রামগঞ্জ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। যেখানে হাজার হাজার মহিলার ভরসার এই হাসপাতালে মাসে মাত্র একদিন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বসেন। ফলে গর্ভবতী মা থেকে সাধারণ মহিলা রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অথচ বিদায়ী তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রচার যেন কেবল ব্যানার-পোস্টারেই সীমাবদ্ধ। এলাকার বাসিন্দারা নতুন সরকারের কাছে রামগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির দাবী তুলেছেন। পাশাপাশি স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞকে স্থায়ীভাবে নিয়োগের দাবী তুলেছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযান (পিএমএসএমএ) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসের ৯ তারিখ একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। ওই একদিনেই রামগঞ্জ-১ ও ২ পঞ্চায়েত, কমলাগাঁও সুজালি, গোবিন্দপুর, চোপড়া সহ বিহারের সীমান্ত এলাকার অসংখ্য মহিলাকে চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভিড় উপচে পড়ে। অনেক গর্ভবতী মহিলাকে অসুস্থ শরীর নিয়েই অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
সিপিআই(এম) ইসলামপুর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, “এলাকার মায়েদের জন্য একজন স্থায়ী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত জরুরি। বহুদিন ধরেই দাবি জানানো হলেও সরকার কর্ণপাত করেনি। নতুন সরকার রামগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাল ফেরাবে এই আশা রাখছি, নইলে আমরা এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে এ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, "সামান্য জটিল সমস্যা দেখা দিলেই প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ইসলামপুর হাসপাতালে ছুটতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।"
রামগঞ্জের বাসিন্দা শর্মিলা সরকার বলেন, “মাসে একদিন নয়, সপ্তাহে অন্তত তিনদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসা দরকার। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
যদিও এ বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। এমনকি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে চিকিৎসক পাঠালেই তবেই সমস্যা সমাধান হওয়া সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত।


 

Comments :0

Login to leave a comment