অবশেষে বাংলার মানুষের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজি, স্বৈরাচারী সরকারের অবসান হলো। সেই জায়গায় এল ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষ-বিভাজনের এবং গণতন্ত্রহরণকারী শক্তি আরএসএস-বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ’র নেতৃত্বে গোটা কেন্দ্রীয় শাসক বাহিনী ক্ষমতা দখলের জন্য সব রকম আঁটঘাট বেঁধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি-সিবিআই-কে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল অন্যদিকে শাসক দলের স্বার্থে নগ্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বানের জলের মতো টাকা ঢালা হয়েছিল ভোট প্রচারে এবং ভোট সংগ্রহের নানা কৌশলে। সরাসরি সাম্প্রদায়িক প্রচার অগ্রাধিকার দিয়ে হিন্দুদের একজোট করার চেষ্টা হয়েছিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে। চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় বিভাজনকে বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা হয়েছিল।
একাজে তারা নিঃসন্দেহে অনেকটাই সফল। মানুষ জীবন-জীবিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকে পাশে সরিয়ে রেখে বিদ্বেষ-বিভাজনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে আস্থা রেখেছেন হয়তো এইভাবে যে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া জঙ্গলের থেকে আপাতত স্বস্তি দেবে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত তাদের এই সিদ্ধান্ত তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দেবার শামিল হলো কিনা উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।
তবে সরকার বদলের এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে ঘটে গেছে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাও। বিধানসভা এবার বামশূন্য থাকছে না। শুধু তাই নয় ভোট প্রাপ্তির নিরিখেও বামেদের ভোটের হার অনেকটাই বেড়েছে। অর্থাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এই নির্বাচন থেকে। গত এক দশক ধরে তৃণমূল বিজেপি’র দ্বিদলীয় তত্ত্বের চাপিয়ে দেওয়া আবহে বিকল্প বাম শক্তির উত্থান সম্ভাবনাকে নির্মূল করে দেবার মরিয়া প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই নির্বাচনে সেই বাইনারিও কার্যত ভেঙে পড়েছে।
আগামীদিনে আরএসএস-বিজেপি’র সরকারের প্রতিটি জনস্বার্থ বিরোধী নীতিও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে থাকবে সিপিআই(এম ) তথা বামপন্থী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক্-স্বাধীনতার উপর যখনই আঘাত আসবে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে বামশক্তি। গণতান্ত্রিক শাসন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হলেই প্রতিবাদ আন্দোলনে রাস্তায় নামবে বামেরা। সর্বোপরি দলিত, আদিবাসী, মহিলাদের স্বার্থ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা নেবে। কৃষকের ফসলের দাম, কর্মহীনদের কাজ, ন্যায্য মজুরির লড়াই শুরু হবে নতুন করে। মোদী-শাহ এবং অন্য নেতারা যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালিত না হলে কাঠগড়ায় তোলা হবে। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ সামগ্রিক পণ্য মূলবৃদ্ধি ঠেকানোর দায় যদি নতুন সরকার না নেয় সোচ্চার হবে বামপন্থীরা। ধর্মান্ধতা বিদ্বেষ-বিভাজনের আড়ালে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রকৃত সঙ্কট চাপা দেবার ষড়যন্ত্রকেও উন্মোচিত করবে বামেরা।
এতদিন বামেদের লড়াই ছিল একদিকে আদর্শহীন দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে মনুবাদী হিন্দুত্বের আদর্শে পরিচালিত সাম্প্রদায়িক, কর্পোরেট আঁতাতের লুটতরাজের বিরুদ্ধে। এবার বামেদের আসল লড়াই শুরু চরম দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ত শক্তির বিরুদ্ধে।
BJP BENGAL
এবার সরাসরি লড়াই
×
Comments :0