ঐক্যের জন্যও সংগ্রাম চালাতে হয়। ফ্যাসিবাদী বিপদকে রুখতে ঐক্য জরুরি। এই নয়া ফ্যাসিবাদকে কায়েম করারই একটি ধাপ এসআইআর এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া। ফলে ঐক্যের জন্য সংগ্রাম চলবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেলিম এক প্রশ্নে বলেন, বামপন্থীরা মানুষের জীবিকা, মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করছে। ‘মানিব্যাগ‘ রাজনীতির বিপক্ষে বামপন্থীরা।
তিনি বলেন, যারা একদল থেকে ভোটের সময় অন্য দলে যায় তাদের দিয়ে মানুষের উপকার হয় না।
ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে আইএসএফ’র প্রার্থী প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে সেলিম আরও বলেছেন, ‘‘বামফ্রন্ট জীবিকার জন্য, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, লুটেরা এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বামফ্রন্টের সঙ্গে সহযোগী দল হিসেবে লিবারেশন এবং আইএসএফ যুক্ত হয়েছে। যাকে পরাস্ত করব তাকে বগলদাবা করব, এটা সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। এই রাজনীতি সিপিআই(এম) বা বামফ্রন্ট সমর্থন করে না।"
বিরোধী কর্মীদের ওপর বহু হামলায় জড়িত তৃণমূলের আরাবুলের ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে আইএসএফ।
এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "আইএসএফ কর্মীকেও পঞ্চায়েতে খুন করেছে। আইএসএফ’র সমর্থক দরদি যাঁরা আছেন তাঁরাও জানেন। যারা একদল থেকে অন্য দলে যায়, তাদের দিয়ে মানুষের উপকার হয় না। এটা কোনও ব্যক্তির ব্যাপার নয়।’’
সেলিম বলেন, ‘‘রাজনীতিতে নীতি এবং নৈতিকতার প্রশ্ন আছে। যাঁরা লড়াই করে উঠে এসেছেন তাঁদের মধ্যে থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তৃণমূল বা বিজেপি’র কাছে এমন উদাহরণ নেই। তৃণমূল বিজেপি-তে সব ‘রিসাইকেলড‘।‘‘
সেলিম বলেন যে অর্থের বিনিময়ে টিকিট দিয়ে লাভ হয় না। বাংলার রাজনীতিতে এই বিষয়টি চালু করেন মমতা ব্যানার্জি। চিটফান্ডের লোককে একশো কোটি টাকার বিনিময়ে ঝাড়খন্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে এনে সাংসদ করে দিয়েছিল তৃণমূল।
তেল ও গ্যাসের সঙ্কট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বিদেশনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিদেশনীতি হচ্ছে আমাদের সুরক্ষার সম্প্রসারণ। আমরা দেখছি জ্বালানি সুরক্ষা নেই। পঁচিশ বছর ধরে বলেছি ইরান-ভারত গ্যাস পাইপলাইন, বাংলাদেশ গ্যাস পাইপলাইন থাকা দরকার। বামপন্থীরা দুর্বল হয়েছে, সেই প্রকল্প সরে গিয়েছে। অথচ এক সময়ে এই প্রকল্প বিবেচনায় রেখে ‘গেইল‘ পরিকাঠামো তৈরি করছিল। কেন হলো না বিজেপি-তৃণমূল জবাব দেবে না?’’
সেলিম বলেন, ‘‘আমরা শান্তির কথা বললে বলা হয়েছে দেশদ্রোহী। যুদ্ধ সমস্যার সমাধান নয়। যুদ্ধ নিজেই সমস্যা। আজকে রান্না থেকে ব্যবসা- যুক্ত সবাই বুঝছেন যুদ্ধ কেন সমস্যা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চল্লিশ লক্ষ বাঙালির প্রাণ গিয়েছিল দুর্ভিক্ষে। তখন ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি।"
পাশাপশি এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ‘বিজেপি কেন জনগণের শত্রু‘- পুস্তিকা প্রকাশ করেন তিনি। সেইসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল এমন কোনও লিফলেট দেয় না।
পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপি থেকে ‘অভয়া‘-র মা প্রার্থী হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, " জাস্টিস ফর আরজি করের যে দাবি ছিল তা থেকে পরিবার হাত গুটিয়ে নিল। হাথরসে যারা দলিত কন্যাকে হত্যা করেছে, গুজরাটে ধর্ষকদের পুরস্কৃত করেছে, তাঁরা ভেবেছেন এদের সঙ্গে হাত মেলালে বিচারের লড়াই হয়ত জোরদার হবে। বামপন্থী ছাত্র-যুবরা অন্যায় দেখে গিয়েছিল। ফলে তারা বিচারের জন্য লড়বে। যাদবপুরেও দল না দেখে আজ যেমন সুজন চক্রবর্তী, বিকাশ ভট্টাচার্য গিয়েছেন। বরং বিজেপি-কে জিজ্ঞেস করুন যে দাড়িভিটে পুলিশের গুলিতে নিহত স্কুলছাত্র মৃত্যুর কেন্দ্রীয় তদন্ত কী হলো। ভোটে ব্যবহার করে অপরাধ দমন হয় না, বিচারও হয় না।’’
পাশাপাশি এদিন এসআইআর-এ যাদের নাম বাদ যাবে তাদের বিষয় বামপন্থীরা কী ভাবছেন তা জানতে চাওয়া হলে সেলিম বলেন, "আরএসএস এমন রাষ্ট্র চায় যাতে বামপন্থা থাকবে না। বিধানসভায় বামপন্থীরা নেই বলেই এমন শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’’
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে ঐক্যের জন্যও লড়াই করতে হয়। অনেকটা এগনো গিয়েছে। সংগ্রামকে দৃঢ় করতে ঐক্য গড়তে হয়। কিন্তু নির্বাচনী সংগ্রাম শেষ সংগ্রাম নয়। শেষ সংগ্রাম হলো সমাজ পরিবর্তন করা। ঐক্যের জন্য সংগ্রাম চালাবো। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখতে সংগ্রাম চলবে।
CPIM MD Selim
নয়া ফ্যাসিবাদকে রুখতেই ঐক্যের জন্য সংগ্রাম চলবে: সেলিম
×
Comments :0