কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর সমর্থনে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের টিভিকে তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানাতে চলেছেন।
সন্ধ্যা ৬টায় বিজয়কে সময় দিয়েছেন রাজ্যপাল। সরকার গঠনের বিষয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে বিধানসভায় গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার দাবি জানাবেন তিনি। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানাতে চলেছে টিভিকে নেতা।
এদিন রাজ্যপালকে চিঠি পাঠিয়ে সিপিআই(এম)’র দুই বিধায়ক আর চেল্লাস্বামী এবং টি লতা সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক পি সম্মুগমের নির্দেশেই পাঠানো হয়েছে চিঠি।
তার আগে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেন, ‘‘পাকিয়ে তোলা অচলাবস্থা কাটাতে সিপিআই(এম) আলোচনা করেছে সিপিআই এবং ভিসিকে-র সঙ্গে। সাধারণভাবে তামিলনাডুর জনগণের রায়কে যাতে প্রতিফলিত করা যায় তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’’
তিনি বলেছেন, ‘‘সবচেয়ে বেশি বিধায়ক রয়েছে এমন দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তামিলনাডুর নির্বাচনে কোনও দলই একক গরিষ্ঠতা পায়নি। থলপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে একক বৃহত্তম দল। তবে বিধানসভায় গরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কিছু কম আসন রয়েছে তাদের।’
টিভিকে'র সূত্র অনুযায়ী, বিজয় আজ বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু পরে বৈঠকটি সন্ধ্যা ৬টায় নির্ধারিত হয়। প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার পর বিজয় বৈঠকে আবারও সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে ।
২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় টিভিকে-র ১০৭ জন বিধায়ক রয়েছেন, আগেই কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়ক টিভিকে'কে সমর্থন জানিয়েছে। সিপিআই এবং সিপিআই(এম), যাদের প্রত্যেকের দুজন করে বিধায়ক রয়েছেন, তারাও অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর টিভিকে-কে সমর্থন করেছে। বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে), যাদের দুজন বিধায়ক রয়েছেন, তারাও বিজয়কে সমর্থন করতে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে, এই জোট ১১৮টি আসন অর্জন করেছে। সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার অনুযায়ী এই ১১৮ টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই প্রয়োজন ছিল টিভিকে'র।
এর আগে, রাজ্যপাল টিভিকে প্রধানকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যপালের এই প্রত্যাখ্যান রাজনৈতিক মহলে বিক্ষোভের ঝড় তোলে। বিরোধী দলগুলির অনেকেই বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের সরকার “পেছনের দরজা দিয়ে রাজ্যপালের শাসন” চাপিয়ে দেওয়ার করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানোতরের মাঝেই শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন জানাতে ব্যক্তিগতভাবে ভিসিকে প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন।
এর পর পরই, সিপিআই ওয়ার্কিং কমিটি সহ সিপিআই(এম)-এর রাজ্য নেতৃত্বও বিজয়কে সমর্থন জানায়, যা বিধানসভা গঠনের সংখ্যার হিসাবে নাটকীয় পরিবর্তন আনে এবং তামিলনাড়ু বিধানসভায় পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
একটি কড়া বিবৃতিতে ভিসিকে নেতা সিন্থানাই সেলভান বিজেপির বিরুদ্ধে তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করার জন্য রাজ্যপালের কার্যালয়কে ব্যবহার করার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন পাশাপাশি বিজেপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক হওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কংগ্রেস, বাম দলগুলো এবং ভিসিকে-র মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যপালের দ্বারা সম্ভাব্য সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা। ’
Tamilnadu Vijay
সমর্থন বামপন্থীদের, গরিষ্ঠতার দাবি জানিয়ে বিজয় যাচ্ছেন লোকভবনে
×
Comments :0