সবচেয়ে উত্তপ্ত দশক দেখল বিশ্ব। পরিস্থিতি এমন যে পৃথিবীতে শক্তির ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। চরম সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ডব্লিউএমও।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের ওয়ার্ল্ড মেটেওরলজিক্যাল অর্গানাইজেশন রিপোর্টে বলেছে, ‘‘২০১৫-২০২৫, এই দশ বছরে বিশ্ব সবচেয়ে উত্তপ্ত থেকেছে। ব্যাপক মাত্রায় পরিবর্তন হচ্ছে খুব কম সময়ের মদ্যে। আগে সেই পরিবর্তন হতে কয়েক দশ এমনকি শতক সময় লেগে যেত।’’
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৬৫ বছরে শক্তির ভারসাম্যে অভাব সবচেয়ে বেশি থেকে ২০২৫ সালে। সূর্য থেকে পৃথিবীতে কত শক্তি আসছে আর কত শক্তি পৃথিবী থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা থেকে ভারসাম্য বোঝার চেষ্টা হয়েছে। কার্ব ডাই অক্সাইড, মিথেনের মতো গ্রিন হাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবী থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে পারছে না।
বিপদবার্তা দেওয়া হয়েছে সমুদ্র নিয়েও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষ যতটা শক্তি ব্যবহার করে তার ১৮ গুন সমুদ্রকে শুষে নিতে হচ্ছে। ফলে সমুদ্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিল্পায়নের আগের পর্বের তুলনায় ২০২৫ সালের শেষে তাপমাত্রা ১.৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
বলা হয়েছে, উত্তাপ বাড়ছে সমুদ্রের। সমুদ্রের জলে কার্বন ডাই অক্সাইড বাড়ছে। তার ফলে আর্কটিক সাগরে বরফের বিস্তৃতি কমেছে। ২০২৫ সালে তা এত কম যে আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস পালন করে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।
দক্ষিণ মেরুতেও আন্টার্কটিকায় সমুদ্রের ওপর বরফের বিস্তৃতিও কমেছে গত বছর। এর চেয়ে কম বিস্তৃতি অতীতে মাত্র দু’বার দেখা গিয়েছে।
রিপোর্ট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ বলেছেন, মানবতা উষ্ণতম এগারোটি বছর পার করেছে। যখন ইতিহাসের পুনাবৃত্তি এগারোবার হয়, তখন তাকে ঘটনাচক্রে ঘটে যাওয়া বলে খাটো করা চলে না। এই রিপোর্ট আমাদের বলছে এখনই বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে কাজের কাজ করতে হবে।’’
Climate Change WMO
উষ্ণতম দশক, বরফ কমছে মেরুতে, এলোমেলো ভারসাম্য: রিপোর্ট ডব্লিউএমও’র
×
Comments :0