BJP Mamata CPI-M

সুশাসনের পক্ষে রায় বলছেন মোদী, পরাজিত মন্ত্রীরা, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতির বার্তা সিপিআই(এম)’র

রাজ্য

কালীঘাটে মমতা ব্যানার্জির বাসভবনের সামনের ছবি।

পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলকে সুশাসনের পক্ষে রায় আখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে বিজেপি দপ্তরে যান তিনি। 
মোদী বলেছেন, ‘‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনশক্তি এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়যুক্ত হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষের প্রতি প্রণত।‘‘
এদিকে মোদীর ভাষণের কিছু পরেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্র সাখওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দু’জনই পৌঁছান গণনা কেন্দ্রে গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়।
পরে বেরিয়ে এসে মমতা দাবি করেন যে অন্তত ১০০টি আসনে ফলাফল লুট করা হয়েছে। তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে আঘাত করেছে। 
এদিকে রাত পৌনে ৯টা নাগাদ ১৭ রাউন্ড গণনার পর দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারী ৬২২৬ ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। 
নির্বাচনে মোদী সুশাসনের দাবি জানালেও বাস্তবে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে তার নমুনা নেই। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বিবৃতিতে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকে স্পষ্ট হচ্ছে তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতি, স্বৈরাচারী রাজত্ব, অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন। রাজ্যের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন চেয়েছেন। এই ক্ষোভের ফয়দা তুলেছে বিজেপি।’’ 
সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরোর বিবৃতিতেও বলা হয়েছে যে বিজেপি’র সামম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রচার, উগ্র বিদ্বেষ ভাষণ, বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ এবং নির্বাচন কমিশন সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহারও এই ফলাফলের পিছনে কাজ করেছে। রয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার অবদানও। 
তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার আভাস মিলছে রাজ্যের একের পর এক মন্ত্রীর পরাজয়ে। শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রথীন ঘোষ, সুজিত বসু, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, উদয়ন গুহ, মানস ভুঁইঞা, অরূপ বিশ্বাসের মতো মন্ত্রীরা হয় হেরেছেন নয়তো শেষ পর্ব পর্যন্ত পিছিয়ে রয়েছেন। 
তৃণমূল পুরো লোপাট গিয়েছে একাধিক জেলায়। পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙ, দার্জিলিঙ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায় গণনার ১৮ রাউন্ড পর্যন্ত তৃণমূল হয় হেরেছে সব আসনে নয়তো পিছিয়ে। 
বিজেপি সারা দেশের মতো এরাজ্যে নির্বাচন লড়েছে তীব্র বিদ্বেষের প্রচার করে। আসামের মতো এরাজ্যেও অনুপ্রবেশের প্রচারে নিশানা করা হয়েছে সংখ্যালঘুদের। এসআইআর’র পর্বেও দেখা গিয়েছে যে সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় নাম বাদ রাখা হয়েছে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক ভূমিকায় নিরপেক্ষতা গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
মোদী যদিও এদিন বলেছেন, ‘‘জনশক্তি জয়যুক্ত হয়েছে। জনগণ বিজেপি-কে অভূতপূর্ব জনাদেশ দিয়েছেন।’’
ফ্যাসিস্ট লক্ষণ সম্পন্ন আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সরকারে প্রথমবার আসীন। সিপিআই(এম) সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুতির বার্তা দিয়েছে এদিনই। 
সেলিম বলেছেন, ‘‘সেলিম বলেছেন, সারা দেশের অভিজ্ঞতায় আমরা জানি, বিজেপি একটি স্বৈরাচারী ও গণতন্ত্র-বিরোধী দল। তাদের জনবিরোধী ও গণতন্ত্র-বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য এ-রাজ্যের মানুষকে তৈরি থাকতে হবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment