‘বাংলায় বিজেপি’র পতাকা ওড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর আজ বিজেপি ক্ষমতায়।’ বিজেপি এবং আরএসএস’র ‘এক দেশ এক দল’ লক্ষ্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত রেখে বাংলায় প্রথম সরকার গঠনের আগে ভাষণ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামও ঘোষণা করেন তিনি।
শাহ বলেন যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিজেপি। শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় এবার সরকার বিজেপি’র। তিনি বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির শাসনে অপরাধীরা রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছে, উন্নয়নের কোনো সুযোগই নেই।‘ তিনি দাবি করেন কয়েক মাসের মধ্যেই এসবের অবসান ঘটবে। শাহের ভাষণে এসেছে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি। এসেছে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গও। যে বিষয়কে সামনে রেখে মেরুকরণ চালানো হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘‘আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হয়ে গেল। বিকাশের ভরসায় যুক্ত হয়ে গেল। আজ তাঁর দল ক্ষমতায়। ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ায় সারা দেশের কর্মীরা আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু অনেক কর্মীই একটি আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন যে তাঁরা বাংলায় বিজেপি’র পতাকা ওড়াতে চান। সেটাও আজ পূরণ হলো।’’
শাহ বলেন, ‘‘বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা বেড়ে ২০৭ হলো। আমাদের বিধায়কদের জয়ের গড় ব্যবধান ২৮,০০০। ৩ থেকে ৭৭ এবং ৭৭ থেকে ২০৭-এ পৌঁছানোর এই যাত্রা অভূতপূর্ব। তৃণমূল ৯টি জেলায় খাতা খুলতেও ব্যর্থ হয়েছে। দিদি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন।’’ শাহ বলেন,‘‘ বিজেপি বাংলার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে আমরা প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে বহিষ্কার করব।’’
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতি চালিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূল- দু’দলই। তৃণমূলের বেলাগাম দুর্নীতি এবং অপশাসনে জনতার তীব্র ক্ষোভ ধরা পড়েছে ভোটের ফলাফলে। নারী সুরক্ষা এবং অভয়ার বিচারও বিষয় হিসেবে জোরালো হয়েছে তবে এদিন শাহের প্রতিশ্রুতিতে প্রশ্ন রয়েছে একাধিক।
ঘটনা হলো, বারবারই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত এবং অপরাধীদের পাশে থেকেছে বিজেপি। এমনকি পদকজয়ী কুস্তিগিররা নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিচার পাননি। উত্তর প্রদেশে হাথরস থেকে উন্নাও, মণিপুরে মহিলাদের প্রকাশ্য নিপীড়নের মতো ঘটনা মনে করিয়েছে রাজনৈতিক মহল। বস্তুত তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাটেই বিলকিস বানুকে ধর্ষণে অপরাধীদের ছাড়িয়ে নিয়ে মালা পরানো হয়েছে। এই বিজেপি বাংলায় কতটা সুশাসন দেবে সংশয় রয়েছে তা নিয়ে।
বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘বিজেপির ওপর আস্থা রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে বাংলার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়। ভবানীপুরের জনগণকেও ধন্যবাদ জানিয়ে শাহ বলেন, এই জয়ের তাৎপর্য শুধু দলের প্রসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর তাৎপর্য শুধু বিজেপি-এনডিএ জোটের ২১তম রাজ্য হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলার মানুষ আমাদের অসীম সমর্থন দিয়েছেন। তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার নেই।’’
ঘটনা হলো, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোট ৯১ লক্ষ নাম বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া ট্রাইবুনালে প্রায় ৩৪ লক্ষ নামকে বিবেচনাধীন রেখে ভোট হয়েছে এরাজ্যে। বিহার, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১৩ টি রাজ্যের এসআইআর পর্বে কতজন অবৈধ বা অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা গেছে তার কোন তথ্য এখনও দিতে পারেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবুও অমিত শাহ এদিন বলেছেন, ‘‘শুধু বাংলা থেকে নয়, সমগ্র দেশ থেকে আমরা বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করব। এটি মেরুকরণের বিষয় নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।’’
৯ মে সকাল ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন। ৫৬ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করার পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়েছেন। ২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-তে। সে সময় নারদ কেলেঙ্কারিতে ছিল তাঁর নাম। তোয়ালে মুড়ে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে।
Amit Shah
‘এক দেশ এক দল’ লক্ষ্যের ইঙ্গিত শাহের ভাষণে
×
Comments :0