কলেজ পরিচালন সমিতি কী ভাবে চালাতে হবে তার পাঠ দিলেন বিজেপি নেতারা। ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের দব কলেজ গুলোর মাথায় নিজেদের নেতা মন্ত্রীদের বসিয়েছে বিজেপি। এদিন সেই সব পরিচালন সমিতির প্রধান এবং রাজ্য নেতৃত্বকে জাতীয় গ্রন্থাগারে ছিল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সভা।
সূত্রের খবর আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনার পাশাপাশি এদিনের বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল কলেজ পরিচালন সমিতির কাজ। রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এদিন স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কলেজ প্রশাসনে কোনওরকম গাফিলতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার রেয়াত করবে না দল। এদিনের এই বৈঠকে দলের জেলা সভাপতি ও বিধায়করাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজেপি নির্বাচনের আগে বলেছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তারা রাজনীতি মুক্ত করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে নিজেদের দলের বিধায়ক এবং নেতাদের কলেজ পরিচালন সমিতির মাথায় বসিয়েছেন তারা। এক কথায় তৃণমূলের কয়দায় আরএসএস শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
নেতৃত্বের কথায়, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি বা গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট কলেজ প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্বশীল পদ। তাই সরকারি নির্দেশ, আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে তাদের কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের কলেজ পরিচালন সমিতি গুলোকে কেন্দ্র করে বার বার প্রশ্ন উঠেছে বহু দুর্নীতিও সামনে এসেছে। সূত্রের খবর এদিন সুনীল বনশল, শমীক ভট্টাচার্যরা দলের নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছে এই সব বিষয় নিয়ে। দল কোন দুর্নীতিকে বর্দাস্ত করবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পরিচালন সমিতির সদস্যদের বলা হয়েছে দায়িত্ব নিয়েই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স এবং সরকারি বিধিবিধান সংগ্রহ করে তা নিখুঁতভাবে জেনে নিতে হবে। নিয়মিত জিবি বৈঠক ডাকতে হবে এবং আগেভাগে আলোচ্যসূচি পাঠাতে হবে। সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ করে তাতে স্বাক্ষর ও সংরক্ষণের পাশাপাশি সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তার তদারকি করতে হবে।
বার্ষিক বাজেট তৈরি থেকে শুরু করে সময়মতো অডিট এবং কর্মীদের পিএফ জমার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে সভাপতিকেই। কলেজ সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ ছাড়া কোনও স্থায়ী পদে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়, পড়ুয়াদের সুবিধার্থে সভাপতিকে নিয়মিত হস্টেল ও মেস পরিদর্শনে যেতে হবে।
উল্লেখ্য গতকাল ভাঙড় কলেজে পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু সেখানে গেলে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ছাত্ররা। পুলিশ ডেকে ক্যাম্পাসের মধ্যে ছাত্রদের ওপর চালানো হয় আক্রমণ। চারজন পড়ুয়াকে কলেজের ভিতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যেই দলের শীর্ষ নেতারা দিল্লি থেকে এসে পরিচালন সমিতি চালানোর পাঠ দিচ্ছে সেই দলের নেতার সামনেই পুলিশ লাঠি পেটা করছে পড়ুয়াদের।
BJP
রাজ্য বিজেপি নেতাদের কলেজ চালানোর পাঠ দিলেন সুনীল বনশল, শমীক ভট্টাচার্যরা
×
Comments :0