Snowfall

বরফের চাদরে মুড়লো সান্দাকফু, সতর্ক বার্তা প্রশাসনের

রাজ্য

বৈশাখের শেষে বরফের চাদরে মুড়লো দার্জিলিঙ পার্বত্য এলাকার সান্দাকফু। বুধবার সকালে প্রবল তুষারপাত হয়েছে সান্দাকফুতে। তুষারপাতের জেরে পুরু বরফে ঢাকা পড়েছে সান্দাকফু। মে মাসের শুরুতে আচমকাই বরফাবৃত হলো সিকিম ও দার্জিলিঙ সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা। তুষারপাতের কারণে এই সময়ে যে সমস্ত পর্যটকরা দার্জিলিঙ পার্বত্য এলাকার সান্দাকফুতে বেড়াতে এসেছেন তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত। শুধু সান্দাফকুতেই নয়, পার্শ্ববর্তী টুঙলু ও টুঙলিঙেও তুষারপাতের খবর মিলেছে। নাথুলা ও ছাঙ্গু লেকেও ভারি ধরনের তুষারপাত শুরু হয়েছে। ফলে গোটা এলাকার সাদা চাদরে মোড়া মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ পর্যটকেরা। 


স্থানীয়দের বক্তব্য, মে মাসে এমন তুষারপাতের দৃশ্য সচরাচর দেখা যায়না। পাহাড়ের গাছপালা, রাস্তাঘাট, রাস্তায় দাঁড় করানো গাড়ি, পাহাড়ি বাড়িঘরের চাল সহ চারিদিকে যেদিকেই চোখ যাচ্ছে সেখানেই সাদা পেজা তুলোর মতো বরফে আবৃত হয়ে আছে। সকাল বেলায় ঘুম ভাঙতেই এমন দৃশ্য দেখে পর্যটকদের প্রায় সকলেই তা ক্যামেরা বন্দী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার মেতে উঠেছেন তুষারপাতের আনন্দে। এদিকে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটনতেই প্রশাসনের তরফে সতর্কতামূলক বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ভারি ধরনের তুষারপাতের কারণে পাহাড়ি রাস্তা বিপজ্জনক হয়েছে পড়েছে। রাস্তাঘাট পিচ্ছিল হয়েছে অনেকটাই। স্বাভাবিকভাবেই পিচ্ছিল রাস্তায় পর্যটকদের চলাফেরা ও ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থে অভিজ্ঞ গাড়ি চালক ও প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়াতে গাইড সাথে রাখার জন্য প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের স্বার্থে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমন এড়িয়ে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। 
পাহাড়ে তুষারপাতের প্রভাব পড়েছে পাহাড় লাগোয়া সমতলের শিলিগুড়িতে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায়। বৃষ্টির পাশপাশি ঝড়ো হাওয়াও বইতে থাকে। বুধবারও অনেক বেলা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের দিকে একটু রোদের উঁকিঝুকি দেখা গেলেও ফের আকাশ মেঘে ঢাকা পড়ে যায়। তাপমাত্রাও অনেকটাই নেমে গেছে। এরইমধ্যে বুধবার সকালে সান্দাকফুতে তুষারপাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। অসময়ের তুষারপাতে পর্যটনশিল্পেও দিশা দেখতে পাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যেই সিকিম ও দার্জিলিঙের জনপ্রিয় পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। হোটেল বুকিং—এ গতি এসেছে। গাড়ির চাহিদাও বেড়ে গেছে অনেকটাই।
 

Comments :0

Login to leave a comment