IRAN USA

মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, নিজস্ব শর্তেই যুদ্ধ থামানোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধ করার মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা তাদের নিজস্ব শর্তেই এই যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। ইরানের এক আধিকারিক 'প্রেস টিভি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবকে "অযৌক্তিক ও বাড়াবাড়ি" বলে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘ইরানের নিজস্ব শর্ত পূরণ হবে, তখনই তারা যুদ্ধ শেষ করবে।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কঠোর আঘাত হানতে প্রস্তুত।
অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দু'বার আলোচনার নামে ইরানকে প্রতারিত করেছে, তা তুলে ধরেন ওই আধিকারিক। তেহরান জানিয়েছে, সামরিক আগ্রাসনের ওই দুই ঘটনার কথা মাথায় রেখেই আমেরিকার এই নতুন প্রস্তাবে তারা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। তাদের দাবি  আমেরিকা এবং ইজরায়েলের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যে কোন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ রোধ করতে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব একটি দীর্ঘস্থায়ী আইনি অধিকার, যা অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে এবং একে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
জেনেভায় দ্বিতীয় দফার আলোচনার সময় আমেরিকাকে দেওয়া প্রস্তাবের পাশাপাশি এই নতুন শর্তগুলো যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক ও সরকারি আধিকারিকদের নিহত হওয়ার ঠিক কয়েকদিন আগে ওই জেনেভা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি নির্ভর করছে এই শর্তগুলো মেনে নেওয়ার ওপর।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিধিনিষেধের ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং এই অচলাবস্থা কাটানোর পথ খুঁজে বের করতে আমেরিকার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ইরান অল্প সংখ্যক জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আমেরিকা, ইজরায়েল বা তাদের সাথে থাকা কোন দেশের জাহাজকে এখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

Comments :0

Login to leave a comment