Post Poll Violence

ভোট পরবর্তী হিংসা, বীরভূমে তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ

রাজ্য জেলা

রক্তপাতহীন হল না এবারের ভোটপর্বও। ভোটের ফল প্রকাশের পর অশান্ত হল বীরভূম। স্রেফ বদল হল আক্রান্ত ও আক্রমণকারীদের অবস্থানের। বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষের প্রাণ গেল এক তৃণমূল কর্মীর। অভিযোগের তীর বিজেপি’র দিকে। নানুরের সন্তোষপুরে এদিন দুপুর থেকে শুরু হয় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। অভিযোগ, রাস্তায় ফেলে কোদাল দিয়ে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুজন। তাদের মধ্যে এজন বিজেপি কর্মী। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ব্যপক উত্তেজনা এলাকায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীমোতায়েন করা হয়েছে। চলছে টহল। জখম তৃণমূল কর্মী আলি হোসেনের মা মুশকুরা বিবি জানিয়েছেন, ‘‘আমার ছেলে ও তাঁর বন্ধু  আবিরকে কুপিয়ে দিয়েছে রাস্তায় ফেলে।  আবির মারা গিয়েছে। বিজেপির লোক মেরেছে।’’
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের দিকে দিকে শুরু হয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা। বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় মারধর, অশান্তি, অগ্নিসংযোগের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সামনে এসেছে একাধিক তৃণমূল কার্যালয় দখলের। সাথে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ঘটনাও ঘটেছে। যেমন কঙ্কালীতলা মন্দিরে ‘বিধর্মীদের প্রবেশ নিষেধ’ সংবলিত একটি পোস্টার টাঙিয়ে বিজেপি কর্মীরা সেবাইতদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘হিন্দু ছাড়া কোনো ধর্মের মানুষ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করে।’ এর মাঝেই আবার সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গেছে পথে নেমে বিরোধী দলের কার্যালয়, বিরোধী কর্মীদের বাড়িতে হামলার বিরুদ্ধে ‘সক্রিয়’ হতে। বলেছেন, ‘‘যে হামলাগুলি হয়েছে তার সাথে বিজেপির কোনো যোগ নেই। নতুন হওয়া কিছু বিজেপি এটা করছে। পুলিশকে বলেছে যারা এমন করছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’’ কিন্তু সিউড়ি নয়া বিধায়কের এই উদ্যোগে অশান্তির আঁচ দমানো যায় নি। নানুরের সন্তোষপুরের ঘটনা তার প্রমান। এদিন গ্রামে দুপুর থেকে শুরু হয় বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ। হাতে দা, কাটারি, কোদাল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলতে থাকে। দুপক্ষের মধ্যে বোমাবাজিও হয়। অভিযোগ বিজেপি এরা বিজয় মিছিল করে ফেরার পথে রাস্তায় ফেলে দুই তৃণমূল কর্মীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীর। আর গুরুতর জখম হন আলি হোসেন নামে আরেক তৃণমূল কর্মী। সংঘর্ষে গুরুত্বর জখম হন সুদেব মাঝি নামে এক বিজেপি কর্মী। বিজেপি কর্মী সুদেব মাঝি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বিজয় মিছিল করে ফিরছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন হাতে কাটারি নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে, বোমা মারে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপ মেরেছে, গ্রামে আরও অনেকে আহত হয়েছে।’’

Comments :0

Login to leave a comment