Post Poll Violence

কোচবিহারে আক্রান্ত সিপিআই(এম) কর্মীদের বাড়িতে নেতৃবৃন্দ

রাজ্য জেলা

বিজেপি’র রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বাস সত্ত্বেও গণনা শুরুর দিন থেকে কলকাতা সহ রাজ্যের সর্বত্র চলছে ভোট পরবর্তী হিংসা। কলকাতা সহ রাজ্যের জেলাগুলির বিভিন্ন এলাকায় মারধর,  অশান্তি, অগ্নিসংযোগের একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। একাধিক তৃণমূল কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের মতো বিজেপিরও টার্গেট লাল ঝাণ্ডাই। সিপিআই(এম) কর্মীদের ওপরেও আক্রমণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে লেনিন মূর্তি ভেঙে দেয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই কোচবিহার নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বলরামপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সরেয়ার পাড় গ্রামের সিপিআই(এম) কর্মী তথা সিপিআই(এম) প্রার্থী আকিক হাসানের পোলিং এজেন্ট হারাধন বৈরাগীর বাড়িতে বেপরোয়া ভাঙচুর এবং এই বুথেরই আরেকজন পোলিং এজেন্ট চন্দন সূত্রধরকে ব্যাপক মারধর করে বিজেপির দুষ্কৃতিরা। বুধবার আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় সহ পার্টি নেতৃত্বরা। ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা অমিত দত্ত, পূণ্যেশ্বর অধিকারী, নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী আকিক হাসান, পার্টি নেতা সাধন দেব, সোলেমান মিঞা প্রমূখ।
এদিন হারাধন বৈরাগীর বাড়িতে যান পার্টি নেতৃত্বরা। ঘুরে দেখেন তার বাড়ির তছনছের ছবি। হারাধন বৈরাগীর স্ত্রী তুলসী বৈরাগী কাঁদতে কাঁদতে জানান,  সোমবার রাত ১০টা নাগাদ ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে প্রায় ৬০ জন বিজেপি দুষ্কৃতী প্রবেশ করে তাদের বাড়িতে,  তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল অস্ত্র। প্রথমেই তাদের বাড়ির পাশে ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার বন্ধ করে তারা। এরপর এই দুষ্কৃতীরদল বেপরোয়া আক্রমণ চালায় তাদের বাড়িতে। তাদের ৪টি ঘরেই চলে এই আক্রমণ। শুধু ঘরগুলি ভাঙচুরই নয়, ঘরে থাকা আলমারি, টিভি, ফ্যান,  মোটর সাইকেল, এমনকি থালা-বাসন ভেঙ্গে চুরমার করে দেয় তারা। এরপর ঘরে থাকা চাল সহ ভিন্ন খাবার জিনিস মেঝেতে ফেলে তাদের ভাঙচুর করা কাঁচের টুকরোর সাথে খাবারগুলি রীতিমতো মিশিয়ে দেন, তারা যাতে বাড়ির কেউ এই খাদ্যদ্রব্যগুলি খেতে না পারেন। তাদের এই কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় রীতিমতো তুলসী দেবীকে মারতে উদ্যত হন এই দুষ্কৃতীরা। তবে কোনক্রমে প্রাণে বাঁচেন তিনি।
তুলসী বৈরাগী আরও জানান, তার স্বামী হারাধন বৈরাগী বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি বাড়িতে থাকলে রীতিমতো তাকে খুন করা হতো। তিনি জানান, তাদের ছেলে থাকেন কেরালায়। বাড়িতে পুত্রবধূর এবং এক শিশু নাতিকে নিয়ে থাকেন তারা দুজন। এই ভয়াবহ আক্রমণের পর রীতিমতো আতঙ্কিত তারা। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোন ভাবেই তিনি সহ তার পরিবার মাথা নত করবে না এই দুষ্কৃতীদের কাছে। তার স্বামীর সাথে লাল ঝাণ্ডার লড়াইয়ে অবিচল থাকবেন তারা। এদিন পার্টি নেতাদের কাছে পেয়ে আতঙ্ক মুক্ত হয় এই পরিবার। তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধেও লড়াই জারি থাকবে বলে এদিন জানিয়ে দেন এই আক্রান্ত পরিবারের প্রধান পার্টি কর্মী হারাধন বৈরাগী। এই আক্রান্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করার পর এদিন পার্টি নেতারা ছুটে যান আক্রান্ত আরেক পার্টি কর্মী চন্দন সূত্রধরের বাড়িতে। সিপিআই(এম) প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট  থাকার অপরাধে তাকেও মারধর করে বিজেপি দুষ্কৃতীরা। তিনিও প্রত্যয়ের সাথে জানান রাজনীতির লড়াইয়ের ময়দান থেকে কোন ভাবেই পিছু হটানো যাবে না তাকে।
এদিন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, তৃণমূলের মতো বিজেপিও সন্ত্রাসের রাস্তায় হাঁটছে। মানুষ তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি উপলব্ধি করবে। এই মানুষই এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই সামিল হবেন। অবশ্যম্ভাবী ভাবে এই লড়াইয়ের পাশে থাকবে লাল ঝান্ডা। বামপন্থীরা ভোটের আগেই বলেছিল, যে তারা জিতলেও মানুষের পাশে থাকবে, হারলেও মানুষের পাশে থাকবে। মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আগামী দিনে কাজ করবে লাল ঝান্ডা বলে এদিন জানান তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment