SIR North Dinajpur

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগেই উত্তর দিনাজপুরে দুই মৃত্যু, ‘আতঙ্কে’ অভিযোগ পরিবারের

জেলা

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ও গোয়ালপোখর ব্লকে দুটি পৃথক এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্ককের ঘটনায় দুই ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে গোয়ালপোখর থানার মালকুন্ডা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল হাদি(৪৯)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুল হাদি এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম বিচারাধীন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিবার সূত্রে দাবি, হিয়ারিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তালিকায় নাম থেকে যাওয়ায় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করতেন যে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে তাঁদের দেশছাড়া করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই আতঙ্কে ভোগার পর সোমবার সকালে বাড়িতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য এসআইআর জনিত মানসিক চাপকেই দায়ি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চোপড়া থানার ঘিরনীগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের জানকিগছ গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম(৩৫)’র মৃত্যুকেও একইভাবে এসআইআর আতঙ্কের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে তাঁর পরিবার। জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম এবং তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামও বিচারাধীন তালিকায় ছিল। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও তালিকা থেকে নাম না থাকায় তিনি উদ্বেগে ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। রবিবার সন্ধ্যায় আইসক্রিম বিক্রি করতে গিয়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের বক্তব্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নুরবানু বেগম কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। সিপিআই(এম) উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুরজিৎ কর্মকার অভিযোগ করেছেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং এর জবাব মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে দেবে। ঘটনাগুলি ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Comments :0

Login to leave a comment