বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ কে কেন্দ্র করে শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল পথ সভা হয়েছে। এদিন বাংলা বাঁচাও যাত্রা শুরু হয় কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে রয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরি, মীনাক্ষী মুখার্জি, অলকেশ দাস, পার্টির কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়, পার্টি নেতা মহানন্দ সাহা প্রমূখ।
বামফ্রন্ট সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গও উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার রাজ্যে এবং ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার পর পরস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে। গোটা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে দারিদ্র ও বেকারি এখন বিপুল মাত্রায় বেড়েছে। কাজের আকালে দারিদ্রে ডুবে থাকা মানুষের শিক্ষা স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রাপ্য অধিকারগুলিও স্বাভাবিকভাবেই দূরঅস্ত হয়ে উঠেছে। শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বিলীন হয়ে হয়ে গেছে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার নিজেরাই কোনও নিয়োগ করছে না, শূন্যপদগুলিকে তুলে দিচ্ছে। অথবা সেখানে স্থায়ী নিয়োগের বদলে সামান্য মজুরিতে ঠিকা নিয়োগ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্টায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলিতেও একই কায়দায় নিয়োগ হচ্ছে না, বরং সেগুলি হয় বন্ধ হচ্ছে অথবা বেসরকারির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক লক্ষ শূন্য পদ রয়েছে তবুও নিয়োগ হচ্ছে না রেলে। রাজ্য সরকারের নিয়োগের একটি বড় ক্ষেত্র ছিল স্কুলশিক্ষা। কিন্তু সেখানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রী সহ একাধিক নেতা মন্ত্রকে জেলে যেতে হয়েছে। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির কারণে ২৬ হাজার শিক্ষক চাকরিহারা হয়েছেন। নতুন করে নিয়োগের নামেও দুর্নীতি ও বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অথচ স্কুলের শিক্ষকপদ শূন্য পড়ে রয়েছে, শিক্ষকশূন্য হয়ে স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্য সরকারি পরিবহণে কোনও স্থায়ী নিয়োগ নেই।
বছরের দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় বসেছিলন মোদী। তাঁর সরকারের মেয়াদ ১১ বছর ছাড়িয়েছে। সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অনুযায়ী ২২ কোটি কর্ম সংস্থান হওয়ার কথা। বাস্তবে সেখানে মাত্র কয়েক হাজার চাকরির নিয়োগপত্র করা হয়েছে সেই দাবি একাধিকবার করেছে বিরোধীরা। এখন বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি উধাও। তা নিয়ে আর কোনও কথা শোনা যায় না কোন বিজেপি নেতা মন্ত্রীর মুখে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও বছরে ২কোটি চাকরি প্রতিশ্রুতি আর মুখে আনেন না। ১০০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তিনি একাধিক সভায় দাবি করেছেন অনুপ্রবেশকারীদের জন্য চাকরি পাচ্ছেন না দেশের যুবক যুবতীরা। এদিন কোচবিহারে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফের বাংলায় কর্মসংস্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবর্তনের ডাক দেন।
সিপিআই(এম) বলছে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়, ‘রুটি-রুজি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রান্তিক মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক, গিগ শ্রমিক, রেগা শ্রমিক, মহিলাদের দাবি ও কর্মসংস্থনের দাবি নিয়ে শনিবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা। মানুষের দৈনন্দিন দাবি নিয়েই বাংলা বাঁচাও যাত্রা।
এদিন তুফানগঞ্জে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমাবেশে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘বাংলার পুনর্জাগরনের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। বাংলা বাঁচাও যাত্রা আসলে নতুন বাংলা গড়ার শপথ। এই যাত্রায় বিভিন্ন অংশের মানুষের সাথে কথা হবে। তাদের সমস্যার কথা জানা হবে। আমাদের লড়াইয়ের নতুন রসদ জোগাড় হবে এই যাত্রা থেকে।’’
Comments :0