শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিতে চার শ্রম কোড, শ্রমশক্তি নিধির মতো আইন পাশ হয়েছে। রেগা বাতিল হয়েছে। স্বস্তিতে ব্যবসার নামে বিদ্যুত সংশোধন বিল, বীজ বিল পেশ হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমজীবীরা ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ধর্মঘটে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে শ্রমজীবী এবং কৃষিজীবীরা। তার ঠিক আগে ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য উদ্বেগজনক।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মন্তব্যের প্রতিবাদে বিবৃতিতে একথা বলল কেন্দ্রীয় ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নসমূহ এই মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে।
কলকাতায় নাজিরাবাদে গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডও ফের দেখিয়েছে শ্রমজীবীর অধিকারের হাল কী। গোডাউনের দরজার তালা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বেরতে না পেরে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রমিকদের।
গত ২৯ জানুয়ারি শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতার জন্য ট্রেড ইউনিয়নের ‘অতি সক্রিয়তাকে’ দায়ী করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। খারিজ করেছিলেন গৃহসহায়িকাদের ন্যূনতম বেতনের মতো সুরক্ষার জন্য দায়ের আবেদন।
সেদিনই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিল সিআইটিইউ। এবার বিবৃতি দিল দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। যৌথভাবে এই বিবৃতিতে শামিল হয়েছে বিভিন্ন শিল্প ও পরিষেবার শ্রমিক কর্মচারীদের স্বাধীন ফেডারেশন এবং অ্যাসোসিয়েশন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্মঘট বা বিক্ষোভের কারণে শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতা হয় না। তার জন্য দায়ী নয়া উদারবাদ এবং কর্পোরেট তোষণের নীতি। বলা হয়েছে, গৃহসহায়িকার পেশায় প্রধানত মহিলারা কর্মরত। তাঁদের ন্যূনতম মজুরি নেই। কাজের সুরক্ষা বা সামাজিক সুরক্ষা নেই। কোনও শ্রম আইনের আওতায় তাঁরা নেই। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনে বা আইএলও’র ১৮৯-তম কনভেনশনে গৃহ সহায়িকাদের সঙ্গত মজুরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ভারত আইএলও’র সদস্য দেশ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পক্ষে সক্রিয় বিভিন্ন শক্তি। যৌথ দরকষাকষির অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। শ্রম আইনকে দুর্বল করতে চাইছে। বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে এই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
দেশের সংবিধান এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ট্রেড ইউনিয়নের লড়াইকে মনে করিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ। বলা হয়েছে যে দেশ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে চলেছে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন। বলা হয়েছে, শিল্পে স্থবিরতার জন্য দায়ী কর্পোরেটের অদক্ষতা, নয়া উদারবাদ, বেনিয়ম। বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৯(১)(গ) ধারা শ্রমিকদের সঙ্গত অধিকার এবং মর্যাদার পক্ষে কথা বলেছে। মনে করানো হয়েছে যে ১৯২৬ সালে, পরাধীন ভারতে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার আইন চালু হয় ধারাবাহিক শ্রমিক আন্দোলনের চাপে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক শোষণের নীতির বেলায় নীরব থেকে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে দায়ী করা হলে এই শোষণকে সমর্থন করা হয়। একযোগে দশ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন জানিয়েছে যে ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট করেই এই অন্যায় নীতির প্রতিবাদে শামিল হবেন দেশের শ্রমজীবী-কৃষিজীবী জনতা।
CTU Statement on CJI's Comment
জবাব ধর্মঘটে, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি ১০ কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের
×
Comments :0