Farmer Commits Suicide

ফের কেশপুরে আত্মঘাতী আলু চাষি

রাজ্য জেলা

ফের এক আলু চাষির মৃত্যু পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে। মৃত কৃষকের নাম অভিজিৎ নন্দী(৩৭)। ঘটনাটি কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানার অন্তর্গত রেনুয়াড় মৌজায়। গত দুই সপ্তাহে এই নিয়ে তিনজনের কৃষকের মৃত্যু। তৃণমূলের সময়কালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই নিয়ে ১৩৬ জন কৃষকের মৃত্যু। জানা গেছে বুধবার সন্ধ্যায় আলু দেখতে জমিতে যায়। রাত রাড়তে থাকে তবুও ঘরে ফেরা না। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন খোঁজ করতে মাঠে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দেখেন অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন আলু চাষী নাম অভিজিৎ নন্দী। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গেছে বিষ পান করে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। মৃত কৃষকের পরিবার জানিয়েছেন প্রায় ১লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। নাওয়া খাওয়া ভুলে মাঠে পড়ে থেকেই আলু চাষ করেছিলেন। এক কুইন্টাল আলুর দাম ৮০-১০০ টাকা। ঝড় বৃষ্টিতে আলুর জমি লন্ডভন্ড। বাজারে বস্তার দাম আকাশ ছোঁয়া। এক কুইন্টাল আলু ভরতে ২ টো বস্তারই দাম ৯০ টাকা। ঝড় বৃষ্টিতে আলুতে পচন ধরায় ভেঙে পড়েন। কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেন। 
পরিবারের সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মৃত কৃষকের স্ত্রী বাসন্তী নন্দী ১২ বছরের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বাকরুদ্ধ। সন্ধ্যায় সে স্বামীকে একা মাঠে যেতে দিলো সেই ভাবনায় শোকাহত স্ত্রী সহ গোটা পরিবারকে শাসক দলের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।  স্থানীয় তৃণমূলের নেতৃত্বর ফতোয়া ঋণের কারণে নয় বলতে হবে পারিবারিক অশান্তির কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন অভিজিৎ নন্দী। হুমকি দিয়ে বলা হয় গ্রামে থাকতে গেলে ফরমান মেনে চলতে হবে। 
প্রতিবেশীদের বক্তব্য, আমাদের বলার কিছু নেই, আপনারা মাঠ গেলেই দেখতে পাবেন   এখনও বিঘার পর বিঘা আলু মাটির তলায়। আবার কোথাও জমিতে পড়ে রয়েছে। কেনার লোক নেই। ফড়েদের নিয়ন্ত্রণে বাজার। জেলার ৯৩ টি হিমঘরে পূর্ণ সেই ফড়েদের রাখা আলুতে। কৃষকরা বন্ড পায়নি। জেলায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু এখনও ৩২ হাজার হেক্টর জমির আলু মাঠে ও মাটির তলায়। গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনায় ২ জন আলু চাষীর মৃত্যু হয়। তাদের একজন কীটনাশক খেয়ে  আত্মহত্যা করেন। অপর জন জলকাদায় আলু নষ্ট ও দাম তলানিতে দেখে মাঠে আলু তুলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর বুধবার রাতে কেশপুরের এই আলু চাষী নিজের জমিতে কীটনাশক খাওয়ায় মৃত্যু হয়।
সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সম্পাদক মেঘনাদ ভূঁইয়া বলেন, তৃণমূল সরকার রাজ্যে এই বিপদ ঢেকে এনেছে গত তিন বছর আগে থেকে আলু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে বাংলার আলু চাষীদের সর্বনাশ করেছে। ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, আসাম সহ বিভিন্ন রাজ্যে যে আলু বাংলা থেকে রপ্তানি হতো, সেই বাজার দখল করেছে উত্তর প্রদেশের আলু। আজ সরকার  সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেও আলু কেনা শুরু না করায় কৃষকরা দাম পেলো না। এখন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সর্বশান্ত হলো। এক কুইন্টাল আলু বিক্রি করেও তার জন্য বস্তার দামও উঠছে না। আমাদের দাবি কৃষকের আলু চাষের জমির পরিমান নির্ধারণ করে সেই মতো উৎপাদিত আলুর সহায়ক মূল্য সরকার কে দিতে হবে। আর মাঠে এখনও পড়ে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২০০৯ সালে ব্যাপক আলু চাষ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরা দাম না পাওয়ায় রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার সেই সময় ৪০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়ে কৃষকদের রক্ষা করেছিলো। এই সরকার কৃষক বিরোধী সরকার। এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিলো না। এই সরকার কে উৎখাত করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Comments :0

Login to leave a comment