Maynaguri

‘আদি-নব্য’ লড়াই, ময়নাগুড়ির দলীয় কার্যালয়ে তালাবন্দি বিজেপি জেলা সভাপতি

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

আলিপুরদুয়ার ও মালবাজারের পর এবার বিজেপির অন্তর্কলহের রেশ আছড়ে পড়ল ময়নাগুড়িতে। প্রার্থী বদলের দাবিতে খোদ জেলা সভাপতিকে দীর্ঘক্ষণ দলীয় কার্যালয়ে তালাবন্দি করে রাখলেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। গেরুয়া শিবিরের এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা দেখে রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ— ‘আদর্শ নয়, নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভই প্রমাণ করছে বিজেপি এখন এক দিশাহীন স্বার্থান্বেষী ভিড়।’
শুক্রবার ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে পুনরায় প্রার্থী ঘোষণা করতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এদিন জেলা সভাপতি শ্যামল রায় ময়নাগুড়ি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। একদল কর্মী-সমর্থক স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয় ঘিরে ফেলেন এবং জেলা সভাপতিকে ভিতরে রেখেই বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সরাসরি অভিযোগ, গত পাঁচ বছর বিধায়ককে এলাকার সাধারণ মানুষ বা দলীয় কর্মী— কেউ পাশে পায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সাফ কথা, ‘‘যাঁকে বিপদে পাওয়া যায় না, তাঁকে ফের প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া মেনে নেওয়া হবে না।’’
ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি ও তৃণমূল— উভয়কেই কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। বামফ্রন্ট মনোনীত আরএসপি প্রার্থী সুদেব রায় বলেন, ‘‘বিজেপির এই আদি ও নব্য লড়াই আসলে দুর্নীতির ভাগাভাগি আর ব্যক্তিস্বার্থের লড়াই। যাঁকে ওরা প্রার্থী করেছে, তিনি পাঁচ বছর মানুষের জন্য কী করেছেন তা আজ তাঁদের কর্মীরাই চিৎকার করে বলছেন। যে দল নিজেদের জেলা সভাপতিকে তালাবন্ধ করে রাখে, তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা দেবে কীভাবে?  অন্যদিকে তৃণমূলের অপশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ। এই দুই দলের সার্কাসে ময়নাগুড়ির উন্নয়ন থমকে গেছে। মানুষের পঞ্চায়েত, মানুষের সরকার এবং মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় একমাত্র বিকল্প বামফ্রন্ট। বিজেপি এখন তালাবন্ধ পার্টিতে পরিণত হয়েছে, আর মানুষ এবার ইভিএমে ওদের পাকাপাকিভাবে তালা মারার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।’’
আলিপুরদুয়ার এবং মালবাজারের পর ময়নাগুড়িতে বিজেপির এই দলীয় কোন্দল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রবল নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিকল্প হিসেবে যারা নিজেদের দাবি করছে, তাদের এই কদর্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আসলে বামপন্থীদের জমিকেই আরও শক্ত করছে। ময়নাগুড়ির রাজপথ এখন স্লোগান তুলছে— ‘রং বদলানো সুবিধাবাদী নয়, লড়াকু বামপন্থীদেরই চাই’।

Comments :0

Login to leave a comment