Election 2026 Krishnanagar North

কৃষ্ণনগর উত্তর: নির্বাচনী প্রচারে ঢেউ সিপিআই(এম) প্রার্থীর

জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

গত ১৫ বছর কৃষ্ণনগর পৌর এলাকা সহ গোটা বিধানসভার কেন্দ্রের মানুষ বিধায়ক হীনতার অভাব বুঝেছেন যথেষ্ট। এই যন্ত্রণা মোচনে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ জোট বেঁধে জয়ী করেছিল বিজেপির প্রতীকের প্রার্থী মুকুল রায়কে। পরবর্তীতে তার দলবদল, অসুস্থতা এবং প্রয়াণের কারণে এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্র বিধায়ক শূন্য। জয়ের পর তৃণমূলে চলে গেলেও উন্নয়নের প্রশ্নে কোন কাজে লাগেনি এই বিধায়কেরা। জীবন যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাসকে নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে জনমানষে। পানিনালা গ্রামের পৈত্রিক ভিটা থেকে উঠে এসে বর্তমানে কৃষ্ণনগরের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অদ্বৈত বিশ্বাস সত্যপ্রিয় হাই স্কুলের অংকের শিক্ষক ছিলেন। ৩৭ বছরের চাকরিজীবনে ছাত্র ও অভিভাবক সমাজের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এই প্রার্থী গণ আন্দোলনেরও প্রতিষ্ঠিত নেতা। সিপিআই(এম) তৎকালীন কৃষ্ণনগর জোনাল কমিটির ও পরবর্তীতে এরিয়া কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি, শিক্ষক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, বিজ্ঞান আন্দোলন, সংগঠিত  নদী ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন সহ শ্রমজীবী মানুষের নিত্যদিনের জীবন জীবিকার আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখকে প্রার্থী পেয়ে উৎসাহিত সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ। ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারে ঢেউ তুলতে শুরু করেছেন প্রার্থী। কৃষ্ণনগর পৌরসভা সহ আসাননগর ভীমপুর, দোগাছি পোড়াগাছা, ভান্ডারখোলা পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে এই কেন্দ্রভুক্ত। যে প্রতিটা পঞ্চায়েতি বর্তমানে নামে বিজেপির দখলে। কিন্তু লুটতরাজ থেকে, আর্থিক দুর্নীতি, টেন্ডার কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি, দলবাজির অসংখ্য উদাহরণে পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে তৃণমূল বিজেপির যে মেলবন্ধন তা স্পষ্ট হয়ে গেছে পরিচালকদের কৃতকর্মে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর পৌর এলাকা সহ গোটা কেন্দ্রের মানুষ মুখ ফিরিয়েছে তৃণমূলের কাছ থেকে। ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে তৃণমূল সাংসদ হেরেছেন এই পৌর এলাকাতেই। ক্ষুব্ধ সাংসদ উন্নয়নের প্রশ্নেও যে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে তা তাদের উন্নয়নের ক্রিয়াকলাপেও স্পষ্ট। এই কেন্দ্রের মানুষ সর্বশেষ কাছের ও কাজের মানুষকে বিধায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন তৎকালীন সিপিআই(এম)’র প্রতিকে নির্বাচিত সুবিনয় ঘোষ কে। বিগত পৌর নির্বাচনেও একচ্ছত্র জয় পেয়েছিল শাসক তৃণমূল। পরবর্তীতে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল,তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেই উঠে আসা দুর্নীতির হাজারো অভিযোগ। বহুবিধ অপ্রীতিকর ঘটনা পরম্পরায় গোটা পৌরসভায় অচল হয়ে যায় একসময়। নিয়োগ হন পৌর প্রশাসক হিসেবে কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক। কিছুদিন পূর্বে তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে একপ্রকার অচল অবস্থা গোটা পৌরসভা জুড়েই। এদিকে এই শহরের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ছেলে অভিনব ভট্টাচার্যকে প্রার্থী নির্বাচিত করেছে তৃণমূল। পার্থী ঘোষণার আগের দিন যিনি সমাজসেবী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদেন। যার নেই কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। নেই জনসংযোগ। নেই গরিব মানুষের জীবন যন্ত্রণার কোন অনুভূতি। নাম প্রকাশের পর থেকেই শহরে কানপাতলেই, শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের টিকিট কেনাবেচার নানাবিধ মুখরোচক গল্প। এই শাসকদের হাত থেকে অঞ্জনাকে বাঁচাতে যে ধারাবাহিক লড়াই আন্দোলন শুরু হয়েছিল জলঙ্গি নদী সমাজ, অঞ্জনা বাঁচাও কমিটি প্রভৃতি একাধিক সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে, তার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন আজকের এই সিপিআই(এম) প্রার্থী। তাই একাধারে প্রকৃত উন্নয়ন,অন্যদিকে সমাজ জীবনকে রক্ষা করতে মানুষের বাড়তি ভরসার প্রতিফলন ঘটছে সিপিআই(এম) প্রার্থীর প্রচার আন্দোলনে। ইতোমধ্যেই শুরু হওয়া দেওয়াল লিখন, পাড়া বৈঠক, গ্রাম বৈঠক, শহরের ওয়ার্ড ভিত্তিক সভা সমিতি গুলোতে নতুন মুখের ভিড় বাড়ছে। পার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রার্থী নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রচার এবং নির্বাচনী জনসংযোগে। রবিবার সকাল থেকেই প্রচারে প্রার্থী। এদিন কৃষ্ণনগর শহরের কালিনগর এলাকায় প্রচার সর্মসূচি সেরে, বিকালে পোড়া গাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুলগাছিতে কর্মীসভায় অংশ নেন প্রার্থী। শেষে গোটা বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বছর ভোর মানুষের কাছে,পাশে থাকা সকলের পূর্ব পরিচিত সিপিআই(এম) প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাস প্রচারে ঢেউ তুললেন।

Comments :0

Login to leave a comment