house wall collapses in Dantan

দাঁতনে মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে বাবা মেয়ের মৃত্যু

জেলা

মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে দুই জনের মৃত্যু। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুই জন। নিহত এবং আহতেরা একই পরিবাররের সদস্য। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের নাম নিরঞ্জন প্রধান ও দুর্গা প্রধান। সম্পর্কে তাঁরা বাবা ও মেয়ে। আহত হয়েছেন নিরঞ্জনের স্ত্রী ও ছেলে। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দাঁতন বিধানসভার অন্তর্গত বেলদা থানার জাহালদাতে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সকলে। সেই সময় মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মাটির দেওয়ালের বাড়িটি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে বাবা ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।  আহত হন নিরঞ্জনের স্ত্রী ও ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বেলদা থানার পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় চারজনকে স্থানীয়রাই উদ্ধার করেন  দস সরিয়ে। তাদের মধ্যে নিরঞ্জন প্রধান ও তাঁর মেয়ে দুর্গা প্রধানের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মা ও ছেলেকে সঙ্কটজনক অবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান প্রতিবেশীরা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবাস যোজনা থেকে বঞ্চিত পরিবার। গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছিল।  আমফানের সময় থেকে দূর্বল হয় মাটির বাড়িটি। টানা বৃষ্টিতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত ছিল মাটির বাড়িটি। রবিবার রাতেই বৃষ্টিতে মাটির বাড়টি ধসে পড়ে প্রাণ হারালের বাবা ও মেয়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সংগে পাঞ্জা লড়ছেন মা ও ছেলে। 
প্রতিবেশী পবন প্রধান বলেন, একেবারে নিঃস্ব পরিবার। ছেলে সারাদিন টলি চালায়, মেয়ে মোড়ে পাপড় ভেজে বিক্রি করে বয়স্ক বাবা মা কে নিয়েই সংসার চালাতেন। ভাঙা ঘরে ত্রিপল চাপিয়ে বাবা মা ও ভাই ও এক দিদি বাস করতেন। রাত তখন ২টা হবে। হঠাৎ বিকট শব্দে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে গেলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সারাদিনের পরিশ্রমের ঘুমের মধ্যেই দেওয়াল চাপা পড়ে পরিবারের শেষ পরিনতি হলো। তাঁর বক্তব্য অনেক আগেই আবাসের ঘর পাওয়া উচিত ছিলো এই পরিবারের। স্থানীয়দের অভিযোগ সিপিআই(এম) সমর্থক বলে এই এলাকায় চিহ্নিত বলে এই পরিবার আবাস থেকে বঞ্চিত।  এমনকি এবারেও বাড়ি বাড়ি ছবি তোলা  হলেও এই পরিবারের ভগ্ন ঘরের ছবি তোলা হয়নি। একটা ত্রিপল গত সপ্তাহে প্রসাশন দিয়ে গেছে প্রতিবাদ করায়। এখন সেই বাড়িটি ভেঙে পড়ে একটা ধ্বংস স্তূপ হয়েছে। এমনকি উঠানে রাখা টলি রিকশাটাও ভেঙে দুমড়ে গেছে দেওয়াল চাপা পড়ায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলদা থানার পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাড়িটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, বৃষ্টির জেরে কাঠামো কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment