Sujan Chakraborty at Dhamakhali

বিজেপিকে হটাতে বিপন্ন মানুষ জোট বাঁধুন, আহ্বান সুজন চক্রবর্তীর

রাজ্য জেলা

প্রবীর দাস: ধামাখালি
আরএসএসের গর্ভে জন্ম নেওয়া তৃণমূলকে বিশ্বাস করে ঠকেছেন। সেই আরএসএসের গর্ভে জন্ম নেওয়া বিজেপিকেও বিশ্বাস করে নতুন করে আর ঠকবেন না। ভুলে গেলে চলবে না এই রাজ্যে তৃণমূলের হাত ধরেই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। সোমবার ধামাখালির সভায় উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে কথাগুলি বলেন, সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস মামলায় এদিন ইডি সিবিআই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আজকের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল্লির বিজেপি চায়নি বলেই পিসি এবং পিসির ভাইপোকে জেলে ভরতে পারলো না ইডি, সিবিআই। কালিঘাটের কাকু যদিও আগেই বলে দিয়েছে আমার সাহেবকে ছোঁয়া অত সহজ নয়। কারণ তিনিও জানেন মাথার উপর মোদী অমিত শাহ আছে।
সারা ভারত কৃষকসভা সন্দেশখালি ২নং ব্লকের উদ্যোগে সোমবার ধামাখালিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় খাদ্য আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে শহীদ দিবস পালিত হয় ধামাখখালি ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায়। খাদ্য চাই খাদ্য দাও-এই স্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ দিবস উপলক্ষে সভা হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ব্লক সভাপতি সুভাষ সর্দার। সভায় সুজন চক্রবর্তী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সারা ভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়ন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক নিরাপদ সর্দার, রঞ্জিত নাথ, সারাভারত কৃষকসভা উত্তর ২৪পরগনা জেলা সম্পাদক গোলাম মণ্ডল, বিলাস বর্মন সহ অন্যান্য কৃষক নেতৃবৃন্দ। 
১৯৬৬সাল। খাদ্য ও কেরোসিনের দাবিতে‌ ৩০ জানুয়ারি মনুমেন্ট ময়দানে বিশাল জনসমাবেশ হয়। সেই রেশ ধরে উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ২৪পরগনার বসিরহাট মহকুমায়। ১৬ফেব্রুয়ারী বসিরহাট মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে জমায়েতে পুলিশ হামলা চালালে ৬জন গুরুতর আহত হয়। পরদিন অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি চারটি স্কুলের ছাত্র ছাত্র শিক্ষকরা উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিতে গেলে পুলিশ গুলি চালালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় তেঁতুলিয়া স্কুলের ছাত্র ১২ বছরের নুরুল ইসলাম। ১৮ফেব্রুয়ারি বাদুড়িয়া থানায় ডেপুটেশন দিতে গেলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারাণ আলি হাফেজ, কালু মণ্ডল। এই তিন শহীদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৫৯ সালের ৩১ আগস্ট খাদ্য আন্দোলনের অন্যান্য শহীদ ও নদীয়ার কৃষ্ণণনগরে ছাত্র আন্দোলনে নিহত আনন্দ হাইতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খাদ্য আন্দোলনে উত্তাল বাংলার সেই অতীত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সুজন চক্রবর্তী অবিভক্ত ২৪ পরগনার অনুন্নত দুর্গম গ্রামাঞ্চলের বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন , কৃষক সভার নেতৃত্বে অবিভক্ত ২৪ পরগনা জুড়ে ক্ষুদিরাম ভট্টাচার্য, হেমন্ত ঘোষাল, প্রভাস রায়, শরৎ সর্দাররা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকদের সংগঠিত করে তিলতিল করে হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, গোসাবা সহ গোটা সুন্দরবনাঞ্চলকে গড়ে তুলেছিলেন গ্রামে গ্রামে রাত্রি যাপনের মধ্যে দিয়ে। রবিরাম, রথিরাম, চামু বিশালদের আন্দোলনের ফসল সেই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে তৃণমূল। তাকে তরান্বিত করতে তৎপর বিজেপি। তাকে রুখতে হবে। রক্ষা করতে হবে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তিলতিল করে গড়ে তোলা সুন্দরবনকে। নতুন প্রজন্মের কাছে যেতে হবে। তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্যগুলিকে। বলতে হবে কী ছিল সন্দেশখালি? বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই ধামাখালি, ন্যাজাট, সরবেরিয়া সহ বিভিন্ন দ্বীপাঞ্চলে বাজার, গঞ্জ বলে কিছু ছিল না। বিদ্যুৎ কি জিনিস জানতো না সুন্দরবনের মানুষ। ছিল না রাস্তাঘাট ব্রিজ, আর্সেনিক মুক্ত পানীয় জল। গরীবের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার কোন অধিকার ছিল না। ৭৮সালে মানুষের পঞ্চায়েত গড়ে সীমিত ক্ষমতায় স্বয়ং সম্পূর্ণ গ্রাম বাংলা গড়ে তুলেছে বামফ্রন্ট। সেকথা তথ্য দিয়ে তাদের বোঝাতে হবে। ত্রাসের রাজত্ব জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করেছিল তৃণমূল। বিজেপি সেই পথেই হাঁটবে। বিভিন্ন সময়ে শুভেন্দুর বিভিন্ন কথা থেকে তা পরিস্কার। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, হিন্দু মুসলিম করে ওরা ভাগ করতে চাইবে। আমাদের কাজ হবে রক্ত মাংসে গড়া মানুষকে ভাগ করতে দেব না। শপথ নিন সন্দেশখালির অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার। সাম্প্রদায়িক বিজেপি শেষ কথা বলবে না। শেষ কথা বলবে সন্দেশখালির সাধারণ গরীব মানুষ। যারা গরীব মায়ের সন্তানের মুখের দুধ কেড়ে নেয় তাদের ক্ষমা করবেন না। ১০০দিন পার হয়েছে। প্রমানিত রাজ্যে অপদার্থ ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। তাকে হটাতে হবে। আর হটাতে গেলে বিপন্ন মানুষের জোট গড়ুন।
সভায় নিরাপদ সর্দার বলেন, ড্রপ আউটে বিদ্ধ সন্দেশখালি। গ্রামে গ্রামে কাজের তীব্র হাহাকার চলছে। কাজের খোঁজে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক যুবতী পরিযায়ীর তকমা নিয়ে ভিনরাজ্যে পড়ে আছে। নতুন করে নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দিনদিন অপুষ্টির চেহারা স্পষ্ট দ্বীপাঞ্চলের কোনায় কোনায়। দীর্ঘ ৩৪ বছরে তিলতিল করে গড়ে তোলা সন্দেশখালিকে ভেঙে তছনচ করে দিয়েছে লুটের পঞ্চায়েত। রাজ্য থেকে আপদ তৃণমূল চলে গেছে। বিজেপি নামক মহাবিপদ এসে হাজির। সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাস্প ছড়িয়ে সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করছে আরএসএস পরিচালিত বিজেপি। তারা সন্দেশখালির মানুষকে ভাগ করতে চাইছে। এসআইআর করে সন্দেশখালির বহু মানুষদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই গতরে খাটা গরীব মানুষ। সেই গরীব মানুষদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিতে হবে আজকের এই শহীদ দিবস পালনের দিনে। সেই লক্ষ্য পূরণে বুথ হোক পাখির চোখ।

Comments :0

Login to leave a comment