AAWAS jALPAIGURI Job Card

জব কার্ড একজনের, আবাসের টাকা অন্যকে, গুচ্ছ অভিযোগে বিক্ষোভ

জেলা

সমস্যায় থাকা বাসিন্দাদের নিয়ে বিক্ষোভ বামফ্রন্টের। জলপাইগুড়ি সদর বিডিও দপ্তরে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতে। অভিযোগ, একজনের একশো দিনের কাজের জব কার্ডের পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে আবাস যোজনার টাকা। শুধু তাই নয়, ঘরের জন্য অনুমোদন পাওয়ার পরেও প্রকৃত প্রাপকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাওয়া পাড়ার বাসিন্দা শিবু শীল ২০১৮ সালে আবাস যোজনায় ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদন মঞ্জুর হয়ে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিডিও’র দপ্তরেও পৌঁছেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত, বিডিও দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও ঘরের দেখা পাননি তিনি। ২০২৬ সালে এসে তিনি জানতে পারেন যে টাকা ইলুয়া চাকিকে দেওয়া হয়েছে। অথচ আবাস যোজনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে শিবু শীলের একশো দিনের কাজের পরিচয়পত্র। যার নম্বর—ডব্লিউবি-০৭-০০২-০০১-০১২/১৮৪। 
শিবু শীলের অভিযোগ, তাঁর প্রাপ্য আবাসের টাকা ইলুয়া চাকির ব্যাঙ্ক হিসাবে ঢুকে যাওয়ায় বর্তমানে নতুন করে আবাসের জন্য আবেদনও করতে পারছেন না তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নাওয়া পাড়ার আরও কয়েকজনের ক্ষেত্রে। সুধীর রায়ের জব কার্ডের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে লক্ষ্মী সূত্রধরের ব্যাঙ্ক হিসাবে টাকা ঢোকানোর অভিযোগ রয়েছে। আবার আবাস যোজনায় আবেদনই করেননি সুধীর মোহন্ত, চানু রায় ও ভূপেন রায়। কিন্তু তাঁদের জব কার্ডের পরিচয়পত্র ব্যবহার করেও অন্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সুধীর মোহন্তের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কসমস কুজুর এবং চানু রায়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে স্বপন দাসের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
আবার কাঁচা বাড়িতে বসবাস করলেও ২০২৫-২৬ সালের আবাস যোজনায় ঘরের জন্য অনুমোদন পাওয়া তরেন দাস ও তপন ধরকে পরবর্তীতে পাকা বাড়ির মালিক দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার সমস্ত অভিযোগকারী হাতে নথিপত্র নিয়ে জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও দপ্তরে হাজির হন। আধিকারিকের চেম্বারের সামনে বসে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পরে আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাওয়া পাড়ার বামফ্রন্টের সিপিআই পঞ্চায়েত সদস্যা মুনমুন দাস (বিশ্বাস) গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। সিপিআই(এম) সদর পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক শুভাশিস সরকার বলেন, কীভাবে একজনের জব কার্ডের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাসের টাকা চলে গেল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব পরিবার আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে ঘরের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। উপস্থিত ছিলেন সিপিআই নেতা তাপস দাস।

 

Comments :0

Login to leave a comment